গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে : চরমোনাই পীর

16

গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন। জনতাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশে এক ধরনের দুর্ভিক্ষ জন্ম দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুমাতে যাচ্ছে। খাবারের জন্য খাদ্য ট্রাকের পেছনে মানুষ দৌড়াচ্ছে। জাতিকে নেশাগ্রস্ত করে স্বার্থ হাসিলের পায়তারা চলছে। দেশ আর এভাবে চলতে পারে না।

শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্তান শহিদ মতিউর রহমান পার্কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে জাতীয় মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ইসলামের আদর্শের আলোকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মহাসমাবেশে ১৫ দফা দাবি এবং ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা।

রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতার ৫১তম বর্ষে এসেও আজকের সরকার ৭১ পুর্ববর্তী সরকারের মতো, নিপীড়নমূলক আচরণ করছে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের কোনো অধিকার ও সম্মান নেই। সকল অধিকার ভোগ করছে ক্ষমতাসীন এবং তাদের দোসররা। অথচ স্বাধীনতা উত্তর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। বাক স্বাধীনতা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। জান-মাল, ইজ্জত-আবরু এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকে একটি সাধারণ ও সহজলভ্য পানীয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যার মাধ্যমে গোটা দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরাও চিন্তিত। দেশময় সংঘাত আর সহিংসতার অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক সংকটে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা এবারও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং আবারও ২০১৪ ও ১৮ এর নির্বাচনের মতো নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। রাতের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সংসদের কোন নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। অতএব আমরা বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চাই।

যারা দেশপ্রেমের কথা বলে ক্ষমতায় গিয়ে এসব অপকর্ম করে, তারা দেশপ্রেমিক নয়; ক্ষমতা প্রেমিক। ক্ষমতা প্রেমিকরাই বিগত দিনে দেশ শাসন করেছে। এই ক্ষমতা প্রেমিকরা দেশের দুশমন, জনগণের দুশমন। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতা প্রেমিকদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশের দুশমনদের এবং জনগণের দুশমনদের পরাজিত করতে না পারলে, দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।

মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।