ব্রেকিং নিউজ
Home / অন্যান্য / অপরাধ / গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী

গ্রেপ্তার হয়েছে শারপিন টিলার খাদক মোহাম্মদ আলী । সে সিলেটের অন্যতম শীর্ষ পাথরখেকো। তাকে ঘিরে অনেক জল্পনা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে। চারটি ওয়ারেন্ট থাকার পরও পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থেকেই সে শারপিন টিলায় লুটপাট চালায়। অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে মোহাম্মদ আলী। কোম্পানীগঞ্জ থানা সদরে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করার সময় র‌্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। রাতে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

গতকাল সকালে পুলিশ তাকে চার মামলার পলাতক আসামি দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। মোহাম্মদ আলী। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের কাঠালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কাঠালবাড়ির পাশেই শারপিন টিলা। ওলির মাজার ছিলো ওই টিলায়। এক সময়ের দর্শনীয় স্থান এটি। পাথরখ্যাত ওই টিলায় ২০০৫ সালে নজর পরে তার। এরপর কৃষি সৃজনের কথা বলে পাশের মটিয়া টিলা লিজ নিয়ে সে শারপিন টিলায় পাথর লুটপাট চালায়। ২০১৫ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টের হিসেব মতে- শারপিন টিলা থেকে মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগিরা প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার পাথর লুটপাট চালিয়েছে। পরবর্তী ৪ বছরেও লুটপাট চালায়। এ অঙ্কের টাকা এখন দ্বিগুণ। এখন অঢেল সম্পদের মালিক সে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে সে শারপিন টিলায় লুটপাট চালিয়েছে। খনিজ ব্যুরোর সাবেক কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ছিলো তার সঙ্গী। ফলে মোহাম্মদ আলী দাপটের সঙ্গে শারপিন টিলার পাথর লুট করেছে। আর এই লুটপাটের কারনে শারপিন টিলা এখন বিরাণভূমি। ৫০-৬০ ফুট টিলার কোনো অস্তিত্ব নেই। এখন পুকুরের সম্রাজ্য এক সময়ের টিলা। অবাধে লুটপাটের কারনে পরিনত হয়েছে জলাভূমিতে। শারপিন টিলায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। ইতিমধ্যে মারা গেছে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক। পাথর লুটপাট করতেই শ্রমিকদের ঠেলে দেয়া হতো মৃত্যুর মুখে। জীবিকার তাগিদে সিলেটের বাইরে থেকে শ্রমিকরা পাথর তুলতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে শারপিন টিলায়। শ্রমিক মারা গেলে পাথরখেকোর লাশ গুম করে ফেলতো। জীবনের মূল্য কেনা হতো টাকা দিয়ে। এতোসব ঘটনার কারনে শারপিন টিলা দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। শারপিন টিলার পাথর থেকে রয়ালিটি আদায় করতো মোহাম্মদ আলী। যারাই পাথর তোলতো তারা রয়ালিটি দিতো। অথচ মোহাম্মদ আলী কখনোই খনিজ ব্যুরো কিংবা সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা নেননি। মোহাম্মদ আলী ও পাথর খেকোদের দাপটে এক সময় শারপিন টিলায় ঢুকতেই পারতো না প্রশাসন। কয়েক বার পুলিশ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত দুই মাস ধরে শারপিন টিলায় শক্তি কমেছে মোহাম্মদ আলীর। আদালতে আইনি লড়াইয়ে কাবু হয় সে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স গ্রহন করা হয়। প্রায় এক মাস আগে মুহুর্মুহু অভিযান চালানো হয় শারপিন টিলায়। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি শারপিনের গর্ত হাওরের পানি দিয়ে ভর্তি করে দেয়া হয়। যে জায়গা থেকে মোহাম্মদ আলী ও তার সিন্ডিকেটরা রয়্যালিটি আদায় করতো সেই স্থান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর তারা অবস্থান নিয়েছিলো চিকাঢর সহ আরো দুটি স্থানে। সেখানেও চালানো হয় অভিযান। মোহাম্মদ আলী তার দলবল নিয়ে পিছু হটে। এরপর থেকে অনেকটা অন্তরালে চলে যায় মোহাম্মদ আলী। পলাতক আসামি হলেও প্রায় মাস খানেক পূর্ব পর্যন্ত সে প্রকাশ্যই ছিলো। শারপিন টিলার পিছু হটার পর সে আড়ালে চলে যায়। পলাতক আসামি হিসেবে তাকে খুজছিলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সোমবার বিকেলে র‌্যাবের হাতে সে গ্রেপ্তার হয়। গতকাল র‌্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। র‌্যাব জানায়- ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, পাথরখেকো মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে কোম্পানীগঞ্জের কাঠালবাড়ি গ্রামের জিয়াদ আলীর পুত্র। রাতে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। এদিকে- কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কানু গতকাল বিকেলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মোহাম্মদ আলী গতকাল সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চারটি ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar