গ্রেপ্তার যমজ সন্তানের খুনি মা

65

নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এক মা তার সন্তানকে হত্যা করেছে। শিশুর কাছে মায়ের মতো নিরাপদ আশ্রয় আর কোথাও নেই। সেই মা কি কখনো তার সন্তানকে খুন করতে পারেন? এমন প্রশ্নে মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। কিন্তু হ্যাঁ, তাই হয়েছে। একজন নয়, যমজ দু’সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করেছে। তার মধ্যে একটি শিশুকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ যখন তার বাসায় অভিযান চালায় তখনও ওই শিশুটির মাথায় ব্লেড ঢোকানো ছিল। অন্য একটি সন্তানকে হত্যা করে ওই মা-রূপী খুনি তাকে একটি প্লাটিকের ব্যাগে ভরে সিঙ্কের (হাঁড়িপাতিল মাজার জন্য চৌবাচ্চার মতো জিনিস) নিচে রেখে দেয়।

প্রতিবেশীরা তার কাছে সন্তানদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাদের সন্দেহ হয়। তারা খবর দেন পুলিশে। পুলিশ উপস্থিত হয়ে উদ্ধার করে ওই যমজ শিশু দুটির মৃতদেহ। গ্রেপ্তার করে মা-রূপী খুনি ডানেজা কিলপ্যাট্রিক’কে (২৩)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

এতে বলা হয়, কিলপ্যাট্রিককে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তিনি ছিলেন ‘হজমাট স্যুট’ পরিহিত। মুখে ছিল নীল সার্জিক্যাল মাস্ক। তাকে এদিন নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার ১১৪তম প্রেসিঙ্কট থেকে বাইরে বের করে নেয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। বাইরে তার দিকে তাক করে থাকা ক্যামেরার দিকে প্রশস্ত চোখে তাকান তিনি। ছেলে সন্তান ডাকোটা এবং মেয়ে ডালাসকে হত্যার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলে। কুইন্সের উডসাইডে তার বাসা। সেখানে তার বাসায় গিয়ে পুুিলশ প্রথমে দেখতে পায় তার সদ্যজাত ছেলে ডাকোটাকে। তাকে তার বেডরুমে বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার মাথার ভিতর গেঁথে ছিল ব্লেড। এ সময় দ্বিতীয় সন্তান কোথায় জানতে চায় পুলিশ। জবাবে তিনি জানিয়ে দেন, সিঙ্কের নিচে। পুলিশ সেখান থেকে গোলাপী একটি কম্বলের ভিতরে জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করে মেয়েশিশু ডালাসকে। এর ফলে কিলপ্যাট্রিকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, শিশুদের আহত করার দুটি অভিযোগ এবং অস্ত্র রাখার মতো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই শিশু দুটির ছবি। কিলপ্যাট্রিকের এক বোন মার্চে এই দুটি শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। তাতে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, নবজাতক ডালাস ও ডাকোটা কিলপ্যাট্রিকের মতো যমজ সন্তানের জন্ম দেয়ার জন্য বোন ডানেজাকে অভিনন্দন। তার জন্য আমি খুবই আনন্দিত। উল্লেখ্য, ২৩ বছর বয়সী কিলপ্যাট্রিক তার এক আত্মীয়ের প্রশ্নে অসংলগ্ন বক্তব্য দেন। ওই আত্মীয় তার কাছে সন্তানরা কোথায় জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন। জবাব এড়িয়ে যান কিলপ্যাট্রিক। ফলে তার ওই আত্মীয় নিউ ইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি বিল্ডিংয়ে অভিযান চালানোর জন্য অনুরোধ করেন পুলিশকে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট রিপোর্ট করেছে যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলেই ওই মা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজের সন্তান সম্পর্কে বলেন, আমি ওদের চাই না। তাদেরকে আমি আর বহন করতে পারছি না।