মঙ্গলবার কলকাতায় প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হবার খবর প্রচারিত হওয়ার পর আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতা করোনার আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে । বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পেতে ভিড় এড়িয়ে থাকার পরামর্শে কলকাতা শহরে মানুষের যাতায়াত অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ পথে না বেরোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অঘোষিত কারফিউয়ের চেহারা নিয়েছে কলকাতার অনেক অঞ্চল। দোকান-বাজার ফাঁকা। রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সংখ্যাও এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। এরই মধ্যে লকডাউনের আশঙ্কা করে মানুষ বাড়িতে মজুত করছেন চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। কলকাতার চেনা ছবিটা আমূল বদলে দিয়েছে করোনার আতঙ্ক। গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, শ্যামবাজার, হাতিবাগান, ধর্মতলা প্রভৃতি এলাকার চেনা ভিড় উধাও। ব্যবসা বাণিজ্য এক প্রকার বন্ধ। হকাররা পসরা নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে রয়েছেন। রেস্তোরাঁগুলোতে নেই কোনও ভিড়। শপিং মল থেকে বিনোদন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকায় চারিদিকে এক অদ্ভুত শূণ্যতা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, করোনা আতঙ্কে কলকাতায় বাইরের (গ্রাম ও শহরতলী ) থেকে মানুষ আসা কমে গিয়েছে। কলকাতায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বাস। এছাড়া বাইরে থেকে প্রতিদিন প্রায় এক কোটির মতো মানুষ নানা প্রয়োজনে কলকাতা আসেন। কিন্তু সেই ভিড় এখন আর নেই। গত কয়েকদিন ধরে যা একটু একটু করে কমছিল তা মঙ্গলবারের পর এক ধাক্কায় অনেটাই কমে গিয়েছে। ফলে মেট্রো রেলেও ভিড় কমে গিয়েছে। নেই সেই চাপাচাপি বা ঠেলাঠেলি। কলকাতার এক প্রবীণ গৌতম সরকার জানিয়েছেন, টিভিতে যা দেখছি তাতে আর ঘরের বাইরে বেরোনোর ঝুঁকি নিতে পারছি না। তার উপর কলকাতাতেই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বয়স্করাই সহজে এই ভাইরাসে বেশি কাবু হচ্ছে জানতে পেরে পাড়ার বয়স্করাও আর আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন না। এদিকে কলকাতায় মানুষ এখন মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন। ফলে মাস্কের খোঁজে সকলে হন্যে হয়ে দোকানে দোকানে ঢুঁ মেরেও একটি যোগাড় করতে পারছেন না। বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে সচেতনার বার্তা হিসেবে মেট্রোরেল, বিভিন্ন রেল স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে প্রচার চালানো হচ্ছে। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে গুজবে কান না দিতে বলা হচ্ছে । অনেক জায়গাতেই এদিন দেখা গেছে বাসে ওঠার সময় বা দোকানে প্রবেশের আগে স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে হাত পরিষ্কার করার জন্য।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031