চট্টগ্রাম কাস্টমসের দেড়শ কনটেইনারের ভেতরে কী

37

চলতি সপ্তাহে পাঁচটি মদের চালান আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ । গত দুই দশকে এতবড় মদের চালান আটকের ঘটনা ঘটেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম, চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ও বন্দরের স্ক্যানিং ছাড়াই দুটি চালান বের হয়ে যায়।

বিপুল পরিমাণ মদ আটকের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে আরও দেড়শ আমদানি পণ্য চালানের খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় মদ আনা হয়েছে; এমন সন্দেহ থেকেই আটক করা হয়েছে চালানগুলো। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনই মদ সন্দেহে আটকের কথা স্বীকার করতে নারাজ। তারা বলছেন, যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মদ আছে কি না সে বিষয়ে এখনো তারা নিশ্চিত নন, মদ থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। মদ থাকুক বা না থাকুক দেড়শ কনটেইনারের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম। তিনি বলেন, যেসব চালানের বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়েছে সেগুলো এআইআর শাখা ও যেগুলোর বিল অব এন্ট্রি পড়েনি সেগুলো পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ) বিল অব ল্যাডিং লক রাখা হয়েছে। এসব চালানের আমদানিকারক বিদেশি ও ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। যাচাই করা হচ্ছে তারা চালান আমদানি করেছে কি না। যদি কোনো আমদানিকারক অস্বীকার করে তা হলে সংশ্লিষ্ট চালানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, খালাস স্থগিত রাখা ১৫০ কনটেইনারে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী খালাস দেওয়া হবে। ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে অবৈধ কিছু এসেছে কি না দেখতে খোলা হবে প্রত্যেকটি কনটেইনার। রপ্তানিকারক দেশ, পণ্যের ওজন, আমদানিকারকের ঠিকানা বিবেচেনায় নিয়ে চালানগুলোর খালাস স্থগিত করা হয়েছে।

অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্স (এআইআর) শাখার উপকমিশনার সাইফুল হক আমাদের সময়কে জানান, স্থগিত রাখা চালানের মধ্যে অন্তত ৪০টি চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান জাফর আহমেদ। বিভিন্ন ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা তিনটি চালান খালাসের দায়িত্বে ছিল জাফর আহমেদ।

এছাড়া আরও অনেক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় বিবেচনা করে চালানগুলো আটক করা হয়েছে। নথি পর্যালোচনা চলছে। মদ থাকার মতো কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেই কনটেইনারটি নামিয়ে কায়িক পরীক্ষা করা হবে। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো কনসটেইনারের কায়িক পরীক্ষা হয়নি।

জাল ডকুমেন্টস তৈরি করে মিথ্যা ঘোষণায় মদের দুটি চালান বন্দর থেকে খালাস নেয় জালিয়াত চক্র। গত শনিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে চালান দুটি আটক করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে আরও তিনটি মদের চালান পাওয়া যায়। ৪০ ফুটের পাঁচটি কনটেইনারে করে প্রায় ৭০ হাজার লিটার মদ আনা হয়েছে। কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, পাবনা ও মোংলা ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য রপ্তানির কাঁচামাল ঘোষণায় আনা হয়েছে মদ।

সূত্র জানায়, ভুয়া আমদানিকারক সেজে কাস্টমস কর্মকর্তার আইডি হ্যাক করে ভুয়া আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ব্যবহার করে চক্রটি। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কাস্টমসের ইপিজেড শাখার রাজস্ব কর্মকর্তার (আরও) নাছির উদ্দিনের আইডি। নাছির উদ্দিনের আইডি হ্যাক করা হয়েছে নাকি এ চক্রে তার সংশ্লিষ্টতা আছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। শুধু আইপি নয়, প্রথম দুই কনটেইনারে খালাস কাস্টমসের যাবতীয় শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, স্ক্র্যানিং ও গেইটে জাল ডকুমেন্ট দেখিয়ে কাভার্ডভ্যান বের করে নেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার হ্যাকিংয়ের বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে আইটি বিশেষজ্ঞদের জানানো হয়েছে।

মদের চালানের মূলহোতা মুন্সীগঞ্জের আজিজুল ইসলাম, তার বড় ছেলে মিজানুর রহমান আশিক ও ছোট ছেলে আহাদ। আজিজুলের ছোট ছেলে আহাদকে গত রবিবার ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আগের দিন শনিবার দুবাই পালিয়ে গেছেন আজিজুল ও তার বড় ছেলে আশিক।

মদের আমদানিকার ও খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। মূল হোতা আজিজুলের ছেলে গ্রেপ্তার হয়েছে। এই চক্রে আর কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে কাস্টমস কমিশনার বলেন।