চট্টগ্রাম বন্দর রাতেই বন্ধ , সকালে সরে যাবে সব জাহাজ

13

ctg-port.

চট্টগ্রাম২০ মে: বন্দরে দূর্যোগ মোকাবেলার বড় ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ছোট বড় প্রায় শতাধিক জাহাজকে পরবর্তী জোয়ারের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  সব সমুদ্রগামী জাহাজকে বহি: নোঙ্গরে এবং আরো বড় জাহাজগুলোকে কুতুবদিয়া এ্যাংকরেজে কাছাকাছি চলে যেতে বলা হয়েছে বলে রেডিও কন্ট্রোল সূত্রে জানাগেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন জাফর আলম জানিয়েছেন,  “জাহাজগুলো বন্দর এলাকার বাইরে যেখানে নিজদেরকে নিরাপদ মনে করবে সেখানে চলে যেতে পারবে্”

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ১৯টি জাহাজ আছে। আজ রাত আটটার মধ্যে ৫টি জাহাজ বন্দর এলাকা ত্যাগ করবে। অপর ১৪টি জাহাজ আগামী কাল সকালের জোয়ারে বন্দর এলাকার বাইরে চলে যাবে।

বন্দরের পরিচালক ট্রাফিক সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, আজ (শুক্রবার) রাত আটটার পর বন্দরের সব ধরনের পন্য উঠানামা বন্ধ করা হবে। । বন্দরের পন্যউঠানামার কাজে ব্যবহৃত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিগুলোকেও নিরাপদে সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে বন্দরের অভ্যন্তরের লাইটারেজ জাহাজগুলোকে বন্দেরর প্রবেশ মূখ থেকে কর্নফুলী নদীর অভ্যন্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে। কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স এসোসিয়েশন সূত্রে জানাগেছে,  বন্দরে সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচল এলাকার বাইরে মাঝির ঘাট এবং বাংলাবাজার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে অধিকাংশ লাইটারেজ জাহাজ।

এই মূহুর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য বোঝাই ৪০টি লাইটারেজ জাহাজ আছে। এগুলো পন্য খালাস বন্ধ রেখে যে অবস্থায় আছে ঠিক সেইভাবে নিরাপদে সরে যাবে বলে জানিয়েছেন কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদ আলম।

ছবি- বন্দর

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো ধেয়ে আসার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহি: নোঙ্গরে অবস্থানকারী বড় জাহাজ থেকে পন্য খালাস বন্ধ রেখেছে লাইটারেজ জাহাজ। মূলত: বৃহস্পতিবার বিকালের শিফট থেকে লাইটারেজ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জাহাজ মালিকরা।

লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনাকারী সংগঠন ওয়াটার টান্সপোর্টেশান কো- অঅডিনেশন সেলের নির্বাহি পরিচালক মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, “সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠায় ছোট জাহাজ চলাচল ঝূকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যার কারণে পন্য খালাসের জন্য  লা্ইটারেজ জাহাজ বন্দরের বহি: নোঙ্গরে যায়নি।”

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো চট্টগ্রামের আরো কাছে চলে আসার প্রেক্ষিতে উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে সরে আসার জন্য মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম জেলায় ৪৭৯টি সাইক্লোন সেল্টার আছে, এগুলোতে সাড়ে চার লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এগুলোর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দূর্গত মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিনত করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানাকে আবশ্যম্ববী ধরে নিয়ে আর কিছুক্ষনের মধ্যে দূর্যোগ প্রস্তুতি’র জন্য চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বৈঠক শুরু হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম এলাকার দূর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয ত্রান সামগ্রী পূর্বেই মজুত করা আছে।

ছবি:মাসুমুল ইসলাম/সিটিজিনিউজ.কম

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় চার নম্বর হুশিয়ারী সংকেতের পরিবর্তে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আজ( শুক্রবার) বিকাল সাড়ে তিনটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিন- পশ্চিমে অবস্থান করছিলো, এটি জোরদার হয়ে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

একই সাথে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর এবং মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে, উল্লেখ করেন তিনি।

মুশফিকুর রহমান আরো জানান, এটি  উত্তর- উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা ধমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।”