চট্টগ্রাম ভোটের দিন অগ্নিগর্ভ হতে পারে

8

ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে সহিংসতা।  চসিক নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ সংঘাতময় হয়ে উঠছে।শুরুতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত হলেও তা এখন মেয়র প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়েকটি ওয়ার্ডে গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেখানে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এরইমধ্যে নগরীর ক্রাইম জোন লালখান বাজার, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, চকবাজার,  ফিরিঙ্গিবাজার ও পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড অন্যতম। এসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর
পাশাপাশি একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছে। যাদের মধ্যে মূলত দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হচ্ছে।

প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। যা থেকে ভোটের দিন এসব ওয়ার্ড পরিণত হতে পারে অগ্নিগর্ভে।

এমন আশঙ্কা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের। আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের সবকটি কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের। যার জন্য বিএনপির ওয়ার্ড ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গত বুধবার দিবাগত রাতে নৌকার মিছিল থেকে নগরীর নুর আহমদ সড়কে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয় নসিমন ভবনেও হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে আওয়মী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নগরীর পাহাড়তলী কাজির দীঘিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর অফিসে হামলায় তিনজন আহত এবং পাঁচলাইশ শোলকবহর এলাকায় যুবলীগের মিছিলে হামলায় ককটেল সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণের অভিযোগ করছেন সরকারি দলের কর্মী সমর্থকরা। যা সম্পূর্ণ সাজানো।
অপরদিকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন ৮ই জানুুয়ারি নগরীর বাকলিয়া এলাকায় নিজেদের মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান সোহেল। ১২ই জানুয়ারি ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে প্রাণ হারান একজন। গুলিবিদ্ধ হন আরো দুজন। এছাড়া বুধবার বিকেলে নগরীর লালখান বাজার ওয়ার্ডে নৌকার  মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের সমর্থকদের সঙ্গে একই দলের প্রতিপক্ষ দিদারুল আলম মাসুমের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ওই জনসভায় আর যাননি মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।  সূত্রমতে, অধিপত্যের লড়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেলাল ও মাছুমের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে আসছে। মাছুম নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না হলেও বেলাল যাতে নির্বাচনে জয়ী হতে না পারে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ফলে ভোটের দিন এই ওয়ার্ড অগ্নিগর্ভে পরিণত হতে পারে।একইভাবে নগরীর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ হলেও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে মাঠে। এরা হলেন, নাছির উদ্দিন, জাহেদ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, মো. ইউসুফ ও মো. এসরারুল হক। তাদের সবার লক্ষ্য সাইফুদ্দিন খালেদকে ঠেকানো। এ ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম। মাহবুবুল আলম বলেন, প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে আমার এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি শঙ্কিত। গতবারের নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতি করা হয়েছিল। এবারও এমনটা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদও। তিনি বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্র দখল করে ভোটারদের ভোট প্রয়োগে বাধা দেয়া হতে পারে। কারণ এখন থেকেই বিভিন্ন স্থানে আমার পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে। আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভোটের দিন এই ওয়ার্ডে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এই ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দিন বলেন, বিগত সময়ে সাইফুদ্দিন এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা নিয়ে নয়ছয় করেছেন। তিনি এলাকার পরিবর্তন করেছেন বললেও তার সময়ে কোনো কাজ হয়নি। দলের উপর মহলকে ম্যানেজ করে মনোনয়ন নিয়েছেন। এলাকার মানুষ যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে আমাকেই বেছে নেবে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ সংঘাতময় হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ তানভীরও। তিনি বলেন, নগরীর অন্তত ১৫টি ওয়ার্ডকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ৭২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টি কেন্দ্র এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের আধিপত্য থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। তবে এসব কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা কোনো কেন্দ্রকে হালকাভাবে দেখছি না। নির্বাচনের দিন যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না ঘটে সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন ২০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে। একই সঙ্গে সংঘাত এড়াতে নির্বাচনের দিন বিজিবিকে মাঠে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।