চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ: ঈদের আগেই নগরীতে বসছে ২শ’ সিসিটিভি

4

ad3f83e93f8f48dbaa1fb5c95a6b31ee

চট্টগ্রাম ১৭ জুন : মো: ইকবাল বাহার সিএমপি কমিশনার বলেন ঈদের আগেই নগরীতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) লাগাতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। মূলত, নগরীতে একটা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য বলে জানান। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এ সংখ্যা প্রায় ২শ’র মতো। সিটি করপোরেশনের মূল রাস্তা কেন্দ্রিক যে ক্যামেরাগুলো ছিল তার কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, কিছু ক্যামেরা নষ্ট হয়েছে। এগুলো পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ চলছে। ঈদের দুই থেকে পাঁচ দিন আগে

থেকে এই ক্যামেরার সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সড়কমুখী সিসিটিভি লাগানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি।

৬০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার চট্টগ্রাম নগরীর ৫০টি পয়েন্টে ১৩৯টি সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিলেন। নগরীতে ক্যামেরা স্থাপনের সময় বাবুল আক্তার বলেছিলেন, ক্যামেরার কারণে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। পুরো নিরাপত্তা সিএমপির হাতের মুঠোয় চলে আসবে। এসব ক্যামেরা মধ্যে গাড়ির নম্বর সংরক্ষণ করার জন্য পিটিজেড ক্যামেরা, ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা ও ১২০০ টিবিএলসহ মোট তিন ধরনের ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। ডব্লিউ থ্রি এক্সপ্লোরার নামে একটি সংস্থা এসব ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। আর স্পট থেকে এসব ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে ফাইবার অপটিক সংযোগের কাজটি করেছিল বেসরকারি ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান চিটাগং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (সিসিএল)। পরবর্তীতে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে অধিকাংশ সিসিটিভি নামিয়ে ফেলা হয়েছে। আবার যেগুলো ছিল, তার অধিকাংশ অচল হয়ে গেছে। তাই দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে তার স্ত্রীর হত্যাকারীদের শনাক্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজের সুবিধা কোন কাজেই আসে নি।

গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে নগরীর জিইসি মোড়ে ৪টি এবং প্রবর্তক মোড়ে ৪টিসহ মোট ৮টি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। সম্প্রতি নগরীতে বিলবোর্ড অপসারণকালে জিইসি মোড়ের আটটি ক্যামেরাই সরিয়ে নেয়া হয়। আর গোল পাহাড় মোড়ে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় কোন দৃশ্য রেকর্ডে আসেনি। কিলিং স্কোয়াডের সদস্যরা সহজেই অদৃশ্য হয়ে যায়। ওই এসব ক্যামেরার মধ্যে হাইরেজুলেশনের একটি ছিল ওআর নিজাম রোডমুখী। কিন্তু সেটিও বিলবোর্ড অপসারণকালে সরিয়ে ফেলায় ঘটনার ফুটেজ ধারণ হয়নি। অপরদিকে, ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী উভয়দিকে অবস্থিত ওয়েল ফুড ও প্রিমিয়ার ভার্সিটির লো রেজুলেশন কোন কাজে আসছে না। এদিকে ক্যামেরায় শুধুমাত্র মানুষের অস্পষ্ট চলাফেরার ছবি ছাড়া আর কিছুই মিলছে না। অস্পষ্ট ফুটেজের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলো ক্লু উদঘাটনে বেকায়দায় রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, নতুন যে ক্যামেরাগুলো লাগানো হবে সেগুলোর মধ্যে দুই মেগাপিক্সেল এবং চার মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ক্যামেরা থাকবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো দিয়ে ভালভাবে দৃশ্য ধারণ হয়না। এজন্য আমরা বেশি রেজুলেশনের ক্যামেরা লাগাচ্ছি যাতে যে দৃশ্যটা ধারণ হবে সেটা যাতে স্পষ্ট হয়। অপরাধীর ছবি যাতে স্পষ্ট হয়।

সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার বলেন, আমরা তো ক্যামেরা লাগাচ্ছি। হাইরাইজ বিল্ডিং, মার্কেট, হাসপাতাল, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে তাদেরও আমরা অনুরোধ করছি যেন সড়কের দিকে মুখ করে তারা কয়েকটি ক্যামেরা লাগায়। তাতে রাস্তার দৃশ্যটা সহজেই ধারণ করা যাবে। এতে অপরাধ ও অপরাধী শনাক্ত করার কাজটা সহজ হবে।

গত জানুয়ারিতে নগরীতে বিলবোর্ড অপসারণের সময় এর খুঁটির সঙ্গে লাগানো ৮১টি ক্যামেরা নামিয়ে ফেলে সিটি করপোরেশন। বাকি ২১টি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো কার্যত অচল ছিল। বিলবোর্ড অপসারণের সময় ক্যামেরার জন্য লাগানো অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তারগুলো বিনামূল্যে সিএমপিকে সরবরাহ করেছিল বেসরকারি ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান চিটাগং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (সিসিএল)। এবারও সিসিএল বৈদ্যুতিক তার সংযোগ দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতায় রাজি হয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, প্রথম দফায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য সিএমপির তহবিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এবার খরচ বেড়েছে আরও দেড়গুণ। সম্ভাব্য খরচও সিএমপির তহবিল থেকেই দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত: গত রোববার সিএমপির দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের উপস্থিতিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সিএমপি কমিশনার মো: ইকবাল বাহার আগামী পনের দিনের মধ্যে নগরীকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।