করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষক-বিশেষজ্ঞদের কম বক্তব্য আসেনি প্রাদুর্ভাব হয়ে ছড়িয়ে পড়ার আড়াই মাসে । নানা দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে গবেষকদের এসব বক্তব্যে পরষ্পরবিরোধী মতও পরিলক্ষিত হয়েছে। সবশেষ এই কোভিড-১৯ নামের এই ভাইরাসের গঠন নিয়ে নতুন তথ্য হাজির করেছেন চীনা গবেষকরা।
তারা দাবি করছেন, নিউমোনিয়াসদৃশ এই ভাইরাসটি ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে। আগে ধারনা করা হচ্ছিল সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ মিটার পর্যন্ত ভাইরাসটির সংক্রমন ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত কোনো রোগী থেকে ছড়ানোর পর এটি ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে গবেষকদের এমন দাবি তুলে ধরে হয়েছে। গবেষকরা গত ২২ জানুয়ারি করোনায় আক্রান্ত হুনানের এক রোগীর পূর্ণাঙ্গ ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছেন। গত শুক্রবার পিয়ার রিভিউ জার্নাল ‘প্র্যাকটিকাল প্রিভেনটিভ মেডিসিন’ গবেষণাকর্মটি প্রকাশ হয়েছে। গবেষকদের নতুন এই তথ্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পূর্বের মতামতকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হুনানের ওই ব্যক্তি দূরগামী একটি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের পিছনের দিক থেকে দ্বিতীয় সারিতে বসে ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ক্লান্ত অনুভব করেন। সেসময় চীনা সরকার করোনাভাইরাসের কারণে জাতীয় সংকট ঘোষণা না করার কারণে বাসের কেউ মাস্ক পরিধান করেনি। বাস থেকে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন গবেষকরা।
প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় করোনাভাইরাস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছড়াতে পারে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ বাস থেকে চলে গেলেও অন্য কেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত করোনাভাইরাস ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস (৯৮ ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় গ্লাস, কাপড়, ধাতব পদার্থ, প্লাস্টিক, অথবা কাগকে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। করোনাভাইরাস মানুষের মুখমণ্ডল ও তরল পদার্থে সর্বোচ্চ পাঁচদিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।
মূলত এ কারণেই রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক পড়া জরুরি বলে মন দিয়েছেন চীনা গবেষকরা। বিশেষ করে বাসে চলাচলের সময় সর্বদা মাস্ক পড়ার উপদেশ দিয়েছেন তারা। এছাড়া গণপরিবহনে চলাচলের পরে অন্তত চার ঘণ্টা পর্যন্ত কারোর সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন হুনানের ওই গবেষক দল।
