ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / তিনিওতো জনপ্রতিনিধি

তিনিওতো জনপ্রতিনিধি

সব ছিল তার। নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী খোকন সাহা প্রতিষ্ঠিত মানুষ ছিলেন । হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ডাকলেন সবাইকে। করোনার ভয়ে এগিয়ে কেউ এলো না। পরে স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়ে তাকে ধরে নীচে নামানোর সময় সিড়িতেই চলে গেলেন চিরতরে। কেউ এগিয়ে এলেন না লাশ দাহ করতে। দীর্ঘক্ষণ মরদেহ পড়েছিল। মেয়েদের কান্নায় কারও মন গলেনি।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ । লাশ নিয়ে যান দাহ করতে। পরিবারের অনুমতি নিয়ে খোকন সাহার মুখাগ্নির কাজটিও করেন খোরশেদ। অভিবাদন খোরশেদ। মানবতার জয়ে আমাদের দরকার অনেক খোরশেদ। রাজনীতি সবাই করে। কারও কারও অতি রাজনীতি মানবতা শেষ হয়ে যায়। মহামারীর এই সময়ে চারপাশের সব দেখে যখন মন ভেঙে যায় তখন অনুপ্রেরনা হয়ে আসেন একজন খোরশেদ। বড় বড় কথাই সবাই বলছে এখন। আর যারা কাজ করছে তাদের সমালোচনা করছে। কিন্তু আলোর পথযাত্রীরা কাজ করে যান নিরবে। খোরশেদের জন্য অনেক ভালোবাসা।
এভাবেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনর কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মানুষই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার প্রতি। দেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত লকডাউন চলছে। কেউ কেউ বলে থাকেন, করোনার এই সময়ে বাংলাদেশে মানবতারও লকডাউন চলছে। মাকে বনে রেখে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। লাশ দাফন ও হাসপাতাল তৈরিতে বাধা দেয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অনেক জনপ্রতিনিধির ভূমিকা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। চাল চুরি করেও সমালোচিত কোন কোন জনপ্রতিনিধি। বেশিরভাগেরই আবার খোঁজই মিলছে না। খোদ ঢাকাতে বহুল আলোচিত অনেক জনপ্রতিনিধির চেহারা একবারও দেখা যায়নি। কয়দিন আগেই না কী সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন তারা। এই সময়েও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ একজন ব্যতিক্রম। এই কাউন্সিলর দিনরাত ছুটে যাচ্ছেন জনগণের কাছে। কখনও সুরক্ষা সামগ্রী অথবা কখনও ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন। করোনা নিয়ে অথবা করোনা সন্দেহে মৃত মানুষের দাফন ও সৎকারেও সবসময় প্রস্তুত তিনি ও তার দল। এ পর্যন্ত এমন ৩৪টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছেন তিনি। জনগণ ডাকুক অথবা না ডাকুক তিনি আছেন তাদের পাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: