জলবায়ু ঝুঁঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে

18

কার্বন নিঃসরণকারী গুরুত্বপূর্ণ উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত তহবিল না দেওয়ায় জলবায়ু ঝুঁঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন । এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। শেখ হাসিনা এ পরিস্থিতিকে দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক আখ্যায়িত করে বলেন, অদ্যাবধি গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-২৬ সম্মেলনের পাশাপাশি ফোরামের সভাপতি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ৪৮ জাতি সিভিএফ নেতাদের সংলাপে ভাষণদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কপ ২৬-এর স্বাগতিক দেশ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের কপ-২৬ সম্মেলনে ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম লিডার্স ডায়ালগ : ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক সংলাপে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ চালু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম কার্বন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নের পথ নির্দেশনা দিতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৩৭ জন সিভিএফ সদস্য একইভাবে সমৃদ্ধি অর্জনে জলবায়ু সহিষ্ণুতার নিজস্ব পরিকল্পনা গড়ে তুলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। তাই এটা দুঃখজনক এবং হতাশাজনক যে এখন পর্যন্ত প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়ে আমরা সিভিএফ সদস্যরা ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের অভিযোজন ও প্রশমনের ৫০:৫০ আনুপাতিক হারে প্রতিবছর মোট ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতরণ পরিকল্পনা মাফিক অর্থায়ন উন্নত দেশগুলোর কাছে দাবি করি।

প্রধানমন্ত্রী ও সিভিএফের চেয়ারম্যান বলেন, সিভিএফ একটি জলবায়ু জরুরি চুক্তি নিয়ে এসেছে। এ চুক্তি জলবায়ু অর্থ সরবরাহ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে। এটি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত রাখার বিষয়টি ক্রমাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করবে। আমরা কপ ২৬-এর প্রেসিডেন্সি এবং ইউএনএফসিসিসির সব সদস্যকে কপ-২৬ ঘোষণাপত্রের অংশ হিসেবে জলবায়ু জরুরি চুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান ভুক্তভোগী হিসেবে নারীরা এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্ধিত অংশীদারিত্বের দাবিদার এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ করে স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়নে আরও সাহসী পদক্ষেপের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল কপ-২৬ সম্মেলনের সাইড লাইনে নারী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাদের দুর্বলতা মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মহিলাদের জন্য অবস্থান তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সংহতির জন্য এ কপ-২৬ সম্মেলনে সাহসী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে নারী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

সাধারণত বিশ্বজুড়ে নারীদের সম্পদের সমান সুযোগ নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই এবং তারা প্রায়ই স্বল্প বেতনের এবং অবৈতনিক চাকরি ও কর্মকা-ে নিয়োজিত থাকে। এসব কারণে নারীদের ওপর পুরুষদের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিররূপ প্রভাব বেশি পড়ে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় নারীদের চরম বিপন্নতা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার টেকসই উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা তার সরকারের দেওয়া অফুরন্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধকতাগুলো (আরও যদি থাকে) খুঁজে বের করব এবং আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, সেগুলোর সমাধানের মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সুবিধাজনক করব।

গতকাল স্কটল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই গণমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সব সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা যথাযথ চ্যানেল ব্যবহার করে বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তার সরকার প্রবর্তিত ২ শতাংশ প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা কিছু অসুবিধার কথা উল্লেখ করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে তিনি জানতেন না যে তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, লন্ডনে একটি রোড শো হবে, যেখানে আমি বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে (বিডা) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলব। বিনিয়োগের সুবিধার্থে সব বাধা দূর করতে ইতোমধ্যে বিডাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের।