জলবায়ু পরিবর্তন নীতির কী হবে ?

42

জাতীয় নির্বাচন মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে । ভোটের মাধ্যমে আগামী চার বছরের জন্য নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন। ‘হাতি’ প্রতীক নিয়ে রিপাবলিকান শিবির থেকে লড়ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিপরীতে ডেমোক্র্যাটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতীক ‘গাধা’।

তবে মার্কিনিদের এই ভোটাধিকার শুধু ‘হাতি’ বা ‘গাধার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাদের ভোটাধিকার নির্ধারণ করবে আদতে মার্কিনিরা বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিবেশকে বাঁচানোর পক্ষে থাকবে কি, থাকবে না।

বৈজ্ঞানিক উপায়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে সহনীয় মাত্রায় রাখতে সমগ্র বিশ্ব যুদ্ধ ঘোষনা করলেও, বিষয়টিকে বারবার হালকা করে দেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, ‘চীনারা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারনাটিকে ঠিকিয়ে রেখেছেন। পৃথিবী শ্রীঘই ঠান্ডা হয়ে আসবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে করা আন্তর্জাতিক প্যারিস চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। তার যুক্তি হলো এই চুক্তি থেকে তার দেশ লাভবান হচ্ছে না, বরং অন্য দেশগুলো এথেকে সুবিধা নিচ্ছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের উষ্ণতা দুই থেকে সাত ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়তে পারে, যদিও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কত দ্রুত বাড়বে, এর ওপর সেটি নির্ভর করছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান অস্বীকার করেন।

বরং এর পেছনে খারাপ লোকের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে মনে করেন। তাদের সতর্ক করে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটে শতাধিকবার ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ ও ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে ধোঁকাবাজি বলেছেন।

পরিবেশবাদীরা বলছে, ‘ট্রাম্প প্রতিনিয়তই বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করে পরিবেশকে ঝুকিঁর মুখে ফেলছে। তিনি দিনদিন জলবায়ু সমস্যা সমাধানের আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।’

অন্যদিকে নির্বাচনি প্রচারে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির গবেষণার জন্য দুই ট্রিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষনা করেছেন জো বাইডেন। জলবায়ুর পরিবর্তনকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করে বাইডেন বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসলে আবারও প্যারিস চুক্তিতে যোগদান করবেন। এছাড়া কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনতে তিনি সারা বিশ্বকে সাথে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ২০২৫ সালের মধ্যে ২৮% কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। পরিবেশবিদ স্যার ডেভিড এট্যানবোরগ বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সূত্র আল জাজিরা।