Home / আর্ন্তজাতিক / জলসীমায় মাছ ধরা নিয়ে উত্তেজনার আভাস বৃটেনের

জলসীমায় মাছ ধরা নিয়ে উত্তেজনার আভাস বৃটেনের

বৃটেনের জলসীমায় মাছ ধরা নিয়ে উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে ব্রেক্সিট বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তার মধ্যে। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, চুক্তি না হলে বৃটিশ সমুদ্র সীমায় পাহারা দিতে প্রস্তুত রয়েছে রয়েল নেভির জাহাজ সমূহ।

প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস বলেছেন, নো ডিল ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্যের মাছ ধরার নৌকা রক্ষার জন্য রয়েল নেভির জলযান পাঠানো হবে। বৃটিশ নৌকাগুলির ‘তাদের আইনানুগ ব্যবসা’ সুরক্ষার জন্য নৌবাহিনীর পুরো শক্তি ব্যবহার করবে। কোনও চুক্তি না হলে ফরাসী জেলেরা প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এমন খবর প্রকাশের পরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই ঘোষণা এসছে। এটাকে ব্রেক্সিট ফিশিং টেনশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সুত্র মতে, ১৯৭০ দশকের  কড যুদ্ধের পর নিজেদের উপকূলে অন্যদের প্রবেশ বারণ করতে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে রয়েল নেভি। তারা নিজেদের সীমানায় কারো প্রবেশ ও মাছ ধরাকে প্রতিরোধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

রয়েল নেভির এখতিয়ারের মধ্যে রযেছে, সমুদ্র অঞ্চলে যে কোন জাহাজ বা নৌযানকে থামানো ও পরিদর্শন। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, ১লা জানুয়ারি থেকে বৃটিশ এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোনে কোনও ইউরোপীয় মাছ ধরা জাহাজ প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

বৃটেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি না হলে ফরাসী জেলেরা চ্যানেল অবরুদ্ধ করার খবরের জের ধরে বেন ওয়ালেসের এই প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর আজ ফিশিং উত্তেজনা বিস্ফোরিত হয়েছে। বেন ওয়ালেস সতর্ক করে বলেছেন, ১লা জানুয়ারী থেকে যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত। তার কথা খুব পরিষ্কার। এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই। আমাদের সামরিক বাহিনীকে অন্যান্য বিভাগের প্রয়োজন অনুসারে রসদ যোগাব। আমরা কেবল নাগরিকদের অনুরোধে কাজ করি। তারা সাহায্য চাইলে আমরা তা দেব।

প্রতিরক্ষা সচিব দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আমাদের মৎস্যজীবীদের সুরক্ষিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সেখানে থাকব। কারণ তাদের আইনী ব্যবসায়ে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।

এদিকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রি বরিস জনসন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন সর্বশেষ টেলিফোনে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। জনসন বলেছেন, আমরা সমঝোতার জন্য চেষ্টা করছি। অবশ্যই আলোচনা থেকে সরে আসবো না। তবে ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাজ্যকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মে বাণিজ্য করার জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৩শে জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে বৃটেন ইইউ থেকে বিচ্ছেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক নাটকীয়তার পর চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারি প্রথম চুক্তি সম্পাদিত হয়। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের জন্য দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রস্তুত করতে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই চুক্তি হোক বা না হোক আগামী ১লা জানুয়ারি দীর্ঘ ৪৫ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটবে। চুক্তি না হলে দুই পক্ষকেই একে অন্যের আরোপ করা শুল্ক দিতে হবে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এমনকি প্রাপ্তি কঠিন হতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। যদি উভয় পক্ষ তাদের মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারে তবে আগামী কয়েকদিনে একটি চুক্তি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: