Home / আর্ন্তজাতিক / জাতিসংঘের গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ঢাকা আসতে চেয়েছিল

জাতিসংঘের গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ঢাকা আসতে চেয়েছিল

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গুম-খুন তথা বিচার বহির্ভূতহত্যা-নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৯ এর বিস্তৃত বর্ণনায় বাংলাদেশের ঘটনাগুলোর করুণ চিত্র উঠে এসেছে। ঘটনাগুলোর প্রতিকারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের ধীর গতি, কোন কোন ক্ষেত্রে উদাসীনতাকে দায়ী করা হয়েছে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উত্থাপিত ওই রিপোর্টে উদ্বেগের সঙ্গে যে বিষয়টি স্থান পেয়েছে তা হলো- বাংলাদেশের গুমের ঘটনাগুলোর বিষয়ে আলোচনায় জাতিসংঘের বলপূর্বক গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ঢাকা সফর করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ না-কী সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক বাংলাদেশ সরকারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেগুনবাগিচার অনানুষ্ঠানিক সূত্র বলছে, অনুরোধ করে থাকলে ঢাকা হয়ত সফরের সুবিধাজনক সময় খুঁজছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা: মার্কিন রিপোর্টে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে- সারা বছরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় অভিযান চালিয়েছে। ওই সব অভিযান হয়েছে- সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের দমনে। কিছু কিছু অভিযানে সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সরকার বা সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে প্রায়শই ওই সব মৃত্যুকে ক্রসফায়ার, বন্ধুক যুদ্ধ বা এনকাউন্টার বলে অভিহিত করা হয়েছে। সরকারী ভাষ্যটিই মিডিয়া প্রচার করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা হিসাবেই দেখছে। কিছু কিছু ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সন্দেহভাজনের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। তবে পুলিশের দাবিগুলোও রিপোর্টে স্থান পেয়েছে। সেল্ফ ডিফেন্স বা বাধ্য হয়ে পুলিশ যে কিছু অ্যাকশন নেয় বলে দাবি করে এটিও রিপোর্টে এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। বলা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড রুলস হচ্ছে কোথাও কোন সহিংসতা থামাতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য বাড়াবাড়ি করে থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইজিপির কাছে রিপোর্ট হওয়ার কথা।

কিন্তু এমনটি হয়েছে কি-না বা তার পরবর্তী অ্যাকশন খুব কমই জনসমক্ষে এসেছে। তাছাড়া বছরজুড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কতটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেটি সরকার না প্রকাশ করেছে, না খতিয়ে দেখতে বা তদন্তের সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যদিও বরাবরই মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন এবং পেশাগত মান বজায় রেখে তদন্ত চেয়েছে। খুব কম ঘটনাতেই ঘটনাগুলোর জন্য দায়ির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তি হয়েছে। রিপোর্টে গত জুলাইতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা জারির বিষয়টি স্থান পেয়েছে এভাবে- আদালত এ বিষয়ে আইন শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সতর্ক করেছেন। বলেছেন,  আমরা বিচারবহির্ভ’ত হত্যাকাণ্ড পছন্দ করি না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হয়ত নিজেদের রক্ষায় বেশিরভাগ বিচারবহির্ভ’ত হত্যায় বাধ্য হয়েছে। কিন্তু, পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিৎ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ও বিচারবহির্ভুতভাবে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক হওয়া। তাদের উচিৎ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

মার্কিন রিপোর্টে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ওই সংস্থা ২০১৮ সালে ৪৬৬ বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা রেকর্ড করেছে বলে জানিয়েছে। যা আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি। আর স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের মূল্যায়নে ২০১৮ সালই ছিল এক বছরে সবচেয়ে বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার বছর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar