প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফর স্থগিত করা হয়েছে প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবিলায় জারি করা বৈশ্বিক সতর্কতার প্রেক্ষাপটে। আগামী ৩০শে মার্চ সরকার প্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফরে টোকিও যাওয়ার কথা ছিল। সব প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ৩ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ওই সফর স্থগিতের নির্দেশনা দেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পররাষ্ট্র সচিবও রাষ্ট্রচার প্রধানকে ডেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে রোববার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর প্যারেড গ্রাউন্ডের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। তবে ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন সীমিত বা ঘরোয়াভাবে পালিত হবে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, করোনার কারণে ঢাকায় আগামী ৩ মাসের সব আন্তর্জাতিক ইভেন্ট পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে।

যেগুলো পেছানো সম্ভব নয় তা বাতিল হচ্ছে। সূত্র মতে, ২২ ও ২৩ শে মার্চ ঢাকায় ডি-এইট শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে অংশ নিতে সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেলের ইস্তাম্বুল থেকে ঢাকা আসার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ ও ৩১শে মে ঢাকায় প্রস্তাবিত ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল জানিয়ে সেগুনবাগিচার একটি দায়িত্বশীল সূত্র মানবজমিনকে বলেছে, উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। সম্মেলনটি পিছিয়ে যাচ্ছে, এটি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে হতে পারে। এদিকে আগামী ১২ই এপ্রিল ঢাকায় ওআইসির ইয়ুথ সামিট হওয়ার কথা ছিল। যেখানে সারা দুনিয়া থেকে বাছাইকৃত ১৫০ জন মুসলিম যুবক ও তরুণকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চলছিলো। ওই আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল বিশ্বের ১০ জন মুসলিম যুবকের হতে ‘বঙ্গবন্ধু যুব পদক’ তুলে দেয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু করোনার কারণে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটিও পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ঢাকায় আগামী ১২ থেকে ১৪ মার্চ জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে মোহাম্মদের সফর করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, অতিথিকে তো আমরা বারণ করতে পারি না। তিনি নিজে থেকে সফর বাতিল বা স্থগিত করলে আমরা অখুশি হবো না। ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতির মধ্য এপ্রিলে ঢাকা আসার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে তিনি কক্সবাজারে যেতে চান। কিন্তু উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে তার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়া বা নেয়া সমীচীন হবে কি-না? তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। কিন্তু তার ঢাকা সফরে নিরোৎসাহিত করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওদিকে আগামী ২৩ শে এপ্রিল ঢাকায় প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন হওয়ার সূচী রয়েছে। সেটি এখনও বলবৎ রয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এপ্রিলের ইভেন্টগুলো রি-শিডিউল হচ্ছে। কিন্তু শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওই ইভেন্ট নিয়ে এখনও নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেই। এদিকে ব্রুনাই দারুসালামের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিইয়া আগামী ১২-১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ব্রুনাই’র হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমান রবিবার প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সফর নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসছেন ব্রুনাইর কোনো সুলতান। তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকার প্রস্তুতির কোনো কমতি নেই। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কতটা অনুকূলে থাকে? তা নিয়ে সেগুনবাগিচার দুশ্চিন্তায় রয়েছে। সূত্র বলছে, ব্রুনাইর সুলতান ঢাকায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখতে আগ্রহী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা সফর হলেও তাকে ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা এলাকায় নিয়ে যাওয়া কতটা শোভন হবে তা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031