টিকে থাকা যায় না অর্থলোভে রাজনীতি করলে : প্রধানমন্ত্রী

11

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থলোভ নিয়ে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে গিয়েও যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অর্থ-সম্পদকে বড় করে দেখেছে, তারা কিন্তু টিকতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বক্তব্য নয়, মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করতে হবে। জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায়।

বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি৷ ১১ নভেম্বর ২০২০ যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও করোনার কারণে পিছিয়ে আজ এ আয়োজন করা হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর যারা ক্ষমতা দখল করেছিল অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু হিসেবে নিয়েছিল, আজকে জনগণের কাছে তাদের কোনো স্থান নেই এবং স্থান থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশে একটি সংগঠন, সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন হিসেবে ঠিকে আছে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিল, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমি নাকি বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবো না। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি বলে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারছি। এজন্য আমরা মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদেরই জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

আলোচনা সভায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বক্তৃতা-স্লোগান নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে একজন মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না। দারিদ্র্য থাকবে না৷ যেটা ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন।

‘যুবলীগকে বলতে চাই, জাতির পিতার সেই আদর্শ বুকে নিয়ে সংগঠন করতে হবে। তাহলেই এদেশে তরুণ সমাজের জন্য কাজ করা যাবে। তারুণ্য থেকেই যেন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি হয়, তারুণ্য থেকেই যেন তাদের জ্ঞান তাদের মেধা দিয়ে এদেশ গড়ে তুলতে পারি। আর ভবিষ্যতে এদেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সেভাবে কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’-যোগ করেন তিনি।

যুবলীগের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে যুবলীগ। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ আসবে, যাবে। নিজেদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে৷ করোনায় আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ছিলো।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনায় যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী বহন, লাশ দাফন, কৃষকের ধানকাটা ও সবজি বাজারজাতকরণে সহায়তা ও এই শীতে কম্বল বিতরণ করেছে। এজন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ গৃহহীন থাকবে না৷ এজন্য ৮ লাখ মানুষকে ঘর করে দিচ্ছি৷ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজের ব্যবসায় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছি৷ সহজে তারা ঋণ নিতে পারে। তরুণদের ট্রেনিং দিলেই ভালো করবে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছি। কারণ আমরা মনে করি, তারুণ্যই শক্তি।

শেখ হাসিনা বলেন, অপপ্রচারে মনোযোগ দেয়া যাবে না। এত কিছু শুনলে সামনে এগোনো যায় না। যখন করোনার ভ্যাকসিন আসছে। নানাজন নানা কথা বলেছে, আমরা কিন্তু কোনো দিকে তাকাইনি। এডভান্স করে দিছি। যাতে অনুমোদন হলে আমরাই প্রথমে টিকা পাই। পেয়েছিও। ৪০ বছরের ওপরে বয়সী ও মানুষের জন্য সব সময় কাজ করে এমন লোকদের আগে দিচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যারা বাধা দিয়েছিল তাদের দোসরদের চক্রান্ত স্বাধীন দেশেও অব্যাহত আছে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।