ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান অভিশংসন আদালতে হাজির হতে পত্র !

26

অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সিনেটের অভিশংসন আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিতে। মার্কিন ইতিহাসে ট্রাম্পই হলেন একমাত্র প্রেসিডেন্ট যার দ্বিতীয় অভিশংসনের জন্য বিচার কাজ চলছে। আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি সিনেটে  এই অভিশংসনের বিচার কাজ শুরু হবে।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার তাঁকে সশরীরে ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিনেট অভিশংসন আদালতে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিয়ে পত্র দেয়া হয়। পত্র পেয়ে অতি দ্রুততার সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি উপস্থিত হবেন না। কংগ্রেসের অভিশংসন ম্যানেজারদের পক্ষে দলনেতা কংগ্রেসম্যান জ্যামি রাসকিন স্বাক্ষরিত এই পত্র পাঠানো হয় ট্রাম্পকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিচারে উপস্থিত না হওয়া তাঁর বিপক্ষে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেস থেকে চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা পাল্টা চিঠি দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত এ চিঠিতে বলা হয়েছে , কংগ্রেসের দেয়া এ চিঠিই প্রমাণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করার জন্য কোন ভিত্তি নেই।
ট্রাম্পের আইনজীবী ব্রুস ক্যাস্টর এবং ডেভিড শোয়েন স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্দেশ্যমূলক অভিশংসন প্রক্রিয়া এবং সংবিধানের অনুসরণ করে এর কার্যক্রম চালানো কোন  ছেলেখেলা নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার উপদেষ্টা জেসন মিলারও নিশ্চিত করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর ভাষায় অসাংবিধানিক অভিশংসন কার্যক্রমে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন , আমরা অপেক্ষা করি এবং দেখি বিচার কার্যক্রম কিভাবে এগিয়ে যায়।

যদি অপরাধের জন্য দণ্ড কার্যকরই না করা যায়, তাহলে সংবিধানে থাকা এমন বিধানই আমরা উঠিয়ে দিতে পারি বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। অস্বীকার করার পর তাঁকে অভিশংসন আদালতে উপস্থিত করার জন্য বাধ্য করা হবে কি না এ নিয়ে ডেমোক্রেটদের কোন বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের বিপক্ষে সফিনা তলবের ব্যাপারেও অভিশংসন ব্যবস্থাপক জ্যামি রাসকিন বৃস্পতিবার পর্যন্ত কিছু জানাননি।

ট্রাম্পের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, এক রাজনৈতিক খেলা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সিনেটে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেয়ার চিঠি কোন পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষার হবে না বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনের সর্বশেষ সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে যৌথ অধিবেশন চলাকালীন ট্রাম্প সমর্থকদের হামলায় ল-ভ- হয় ক্যাপিটল হিল। নির্বাচনে জালিয়াতির ভুয়া দাবি তুলে ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের ওয়াশিংটনে জড়ো করেন। তাঁর উস্কানিতে সমর্থকদের হামলায় ক্যাপিটল হিলে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে।
এক সপ্তাহ পরেই মার্কিন কংগ্রেস দ্বিতীয় বারের মতো তাঁর বিপক্ষে অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ট্রাম্পের নিজের দল, রিপাবলিকানদের ১০ জন আইন প্রণেতা তাঁর অভিশংসনের পক্ষে কংগ্রেসে ভোট প্রদান করেছেন। আসছে সপ্তাহেই সিনেটে তাঁর অভিশংসন আদালতের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সিনেটের ১০০ জন সদস্য অভিশংসন মামলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শপথ নিয়েছেন। দণ্ড কার্যকর করতে হলে দুই তৃতীয়াংশ সিনেট সদস্যদের ভোটের প্রয়োজন হবে। এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। রিপাবলিকান ও ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন দণ্ড আরোপের কোন বিধান মার্কিন সংবিধানে নেই। সিনেটে ডেমোক্রেট দলের নেতা চাক শুমার বলেছেন , ১৮৭৬ সালে মার্কিন সংবিধানে এক ব্যখ্যায় এমন দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
ডেমোক্রেট দল চেষ্টা করছে, ন্যূনতম হলেও মার্কিন সংবিধানের ১৪ সংশোধনী ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর আরোপ করার জন্য। তা করা সম্ভব হলে পরের কোন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রার্থী হতে পারবেন না। ১৪তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি  রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা,ষড়যন্ত্র করা, অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করলে রাষ্ট্রীয় যে কোন পদের দায়িত্ব গ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেন ।