ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট যোগ্য নন অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, না হয় অভিশংসন

23

ডেমোক্রেটরা অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনে যাবেন । ক্যাপিটল হিলে বুধবার আগ্রাসী হামলায় তার ভূমিকার জন্য তার বিরুদ্ধে এ পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির অফিস ওই হামলার সময় তছনছ করা হয়। আপত্তিকরভাবে বিক্ষোভকারীরা তার চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর পা তুলে দেয়। সেখান থেকে লুটে নেয় পেলোসির ল্যাপটপ। এসব সহিংসতায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ জন্য অভিশংসন প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জোর আশা করছেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এ জন্য ডেমোক্রেটরা আগামী সোমবারই প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিয়ে বিদ্রোহের অভিযোগ উত্থাপন করবেন।

এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন বলেছেন, অভিশংসনের ব্যাপারটি কংগ্রেসের বিষয়। তবে তিনি অনেক আগে থেকেই মনে করেন প্রেসিডেন্ট পদ ধরে রাখার যোগ্য নন ট্রাম্প। অন্যদিকে অভিশংসনের উদ্যোগকে  রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে হোয়াইট হাউজ থেকে। সেখান থেকে আরো বলা হয়েছে, অভিশংশন প্রক্রিয়া ‘আমাদের মহান দেশকে আরো বিভক্ত করবে মাত্র’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

যদি অভিশংসন প্রক্রিয়া সত্যিই এগিয়ে চলে তাহলে এটা হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদের এমন দ্বিতীয় উদ্যোগ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে অভিশংসিত করেছিল প্রতিনিধি পরিষদ। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুটি অভিযোগ থেকেই তাকে খালাস দেয় সিনেট। এর কারণ, তখন সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ওই অভিযোগ খারিজ করা তাদের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ডেমোক্রেটদের হাতে। সিনেটও তাদের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে। ফলে যদি অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়, তাহলে তা কার্যকর হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়নি। যদি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সত্যি এমন উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে এক্ষেত্রে তিনিই হবেন প্রথম প্রেসিডেন্ট। তবে বিবিসি লিখেছে, প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হতে পারে প্রতীকী।
অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক চাপে পড়ছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তার প্রশাসন আরো সঙ্কটের গভীরে তলিয়ে যায়। আরো অনেক কর্মকর্তা ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। অনেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। বুধবার ক্যাপিটল হিলে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় সিনিয়র রাজনীতিকরা রয়েছেন একেবারে প্রান্তসীমায়। এর ফলে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। কিভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পারমাণবিক কোড-এর সুবিধা পাওয়া প্রতিরোধ করা যায়, তিনি তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ওদিকে ডেমোক্রেট এবং বেশ কিছু প্রথম সারির রিপাবলিকান বার বার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্পের মন্ত্রীপরিষদের কাছে। তারা বলছেন, সংবিধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে। এজন্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী সক্রিয় করার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।