জেলা প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রামের  ছয় মাসের নিজের কার্যক্রমের বিবর দিলেন। প্রশাসক হিসেবে ছয় মাস পূর্ণ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার নগরীর সার্কিট হাউসে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ৬ মাস’ শিরোনামে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। এসময় তিনি শুধু নিজের কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেননি, বরং সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে জানতে চেয়েছেন–চট্টগ্রামের মানুষ প্রশাসনের কাছে কী চায়, কোথায় ঘাটতি আছে, আর কী করলে জনসেবাকে আরও কার্যকর করা যায়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সামনে গিয়ে নিজের কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে গত ছয় মাসে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রামের  ছয় মাসের নিজের কার্যক্রমের বিবর দিলেন। প্রশাসক হিসেবে ছয় মাস পূর্ণ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার নগরীর সার্কিট হাউসে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ৬ মাস’ শিরোনামে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। এসময় তিনি শুধু নিজের কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেননি, বরং সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে জানতে চেয়েছেন–চট্টগ্রামের মানুষ প্রশাসনের কাছে কী চায়, কোথায় ঘাটতি আছে, আর কী করলে জনসেবাকে আরও কার্যকর করা যায়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সামনে গিয়ে নিজের কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি এবং গণশুনানি কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক স্থান পায়। ভিডিওচিত্রে দেখানো হয়, ৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভিডিওচিত্রে নির্বাচনকে ‘অভিযোগহীন ও হতাহতবিহীন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। নির্বাচনের পাশাপাশি আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত অভিযানও। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই এলাকাকে সংবাদ সম্মেলনে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে কোনো প্রাণহানি ছাড়াই এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ ছাড়া ডিসি পার্কে ফুল উৎসব, ডিসি হিলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘ফেস্টিভ সেল’ চালুর উদ্যোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, অবৈধ মজুদ ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া গত ছয় মাসে ভূমি উদ্ধার, শ্রমিক অধিকার, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, সংস্কৃতি চর্চা, কারাগারে মানবিক উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানির মতো কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন কি না, কিংবা আরও কী করণীয় রয়েছে, সেটি জানতেই সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসেছেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্বশীল জায়গায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। সমাজের বাস্তব চিত্র সবচেয়ে বেশি তুলে ধরেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের পরামর্শ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মাঝেই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, আমিও মানুষ হিসেবে তার ব্যতিক্রম নই। তবে আমরা যে দায়িত্বে থাকি, সেই জায়গায় শতভাগ উজাড় করে দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহকর্মীরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সহযোগিতা, সমালোচনা ও পরামর্শ আমাদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকেই জেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনারা আগামীতে কী ধরনের প্রশাসন চান, আপনাদের কী পরামর্শ আছে, আমরা কতটুকু সেবা দিতে পারছি–এসব বিষয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক বলেন, কাজের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি সক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নাগরিকদের চাহিদা পূরণে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কোনো পরামর্শ থাকলে বলবেন। কোনো কাজ খারাপ লাগলে সেটিও বলবেন, যাতে আমরা নির সংশোধন করতে পারি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু  ভুক্তভোগী জনগণ বলছেন  আগের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি বরং চলমান সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মকর্তারা সরকারি বেতন নিচ্ছে জনগণ সর্বময় ক্ষমতার মালিক বলছেন অথচ সবাই আসলে সবাই সবাইকে / নিজেকে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930