Home / আর্ন্তজাতিক / ঢাকাকে ফলো করতে বললেন দূত , নড়েচড়ে বসেছে ইইউ

ঢাকাকে ফলো করতে বললেন দূত , নড়েচড়ে বসেছে ইইউ

ইইউ বেশ ক’দিন ধরে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ভাসতে থাকা প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জনিয়েছে । করোনা আতঙ্কে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য রাখাইন ত্যাগী ওই রোহিঙ্গারা সাগরে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বোরেল এবং কমিশনার জানেস লেনারিচ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, অব্যাহতভাবে উদারতা ও মানবতা দেখিয়ে বাংলাদেশ ২৬ এপ্রিল চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে নিরাপদে আশ্রয় দিয়েছে। আমরা আশা করব, এ অঞ্চলের দেশগুলো এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে। ভাসমান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশলেতে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান। পরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদ টেলিফোনে একই অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। জবাবে মন্ত্রী মোমেন ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে বৃটিশ রয়েল নেভি শিপ পাঠানোর পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাখাইনে মিলিটারি অপারেশন চলছে অথচ ইইউ সেখানে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছ।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করে ইইউ’র ওই সমালোচনার কারণেই টনক নড়েছে। ব্রাসেলস নড়েচড়ে বসেছে। সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন কোন ধরণের রাখঢাক না করেই বলেন, দুটি নৌকায় থাকা ৫০০ রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামানে ভাসছে। মালয়েশিয়া সরকার তাদের নেয়নি। ফলে এখন তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তারা এখন বাংলাদেশের জলসীমায় নেই। এদের গ্রহণ করার কোনো দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের নেই। তাদের সাহায্যের জন্য অন্য দেশও এগিয়ে আসতে পারে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ অঞ্চলে তো মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ আরও অনেক দেশ আছে। তাদের তো বলা হয় না। শুধু বাংলাদেশের কাছে এদেরকে নেয়ার অনুরোধ আসে কেন?

শনিবার ঢাকাস্থ ইইউ দূতের কার্যালয় প্রচারিত বিবৃতিতে মিয়ানমারের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অবিলম্বে নিঃশর্তে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়- এটি রোহিঙ্গাদের মূল সমস্যার সমাধান করবে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ও উন্নয়ন অংশীদার ইইউ এ অঞ্চলের জন্য আরও সহায়তা দিতে তৈরি আছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়- রোহিঙ্গাদের আদি নিবাসে নিরাপদ, টেকসই, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে ইইউ অব্যাহতভাবে উৎসাহ দিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রক্রিয়ায়ও সমর্থন করে যাবে ব্রাসেলস।

আপনার মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: