Home / খবর / তারা করোনাকেও ভয় করে না !

তারা করোনাকেও ভয় করে না !

সবাই যখন দিনমান ঘরে বন্দী আছেন, তখন বাশার বাহিনী আছেন ঘরের বাইরে। সারা পৃথিবী যেখানে করোনায় আতঙ্কিত, সেখানে রাজধানীর মুগদার হাবিবুল বাশার আর তার বন্ধুদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই! কখনো মদিনাবাগ বাজার, কখনো মান্ডা বাজার, আবার কখনো আমিন মোহাম্মদ আবিসক এলাকার ব্রিজের উপর অলস সময় কাটে তাদের।

করোনায় সরকার ১০ দনিরে জন্য সরকার-িবসেরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছ।ে সারা পৃথিবীও স্তব্ধ হয়ে আছ। এমন পরিস্থিতিতে বাসার বাইরে আড্ডা দিচ্ছেন, ভয় করে না? এমন প্রশ্নে বাসার একগাল তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন, আমগোর কিছুই হইবো না। কোনো দিনই ঘরে বইসা থাকি নাই, আর থাকুমও না। মাঝে মধ্যে পুলিশের ফাঁপরের লেইগা এইখানে ওইখানে বসি।

পুুলিশের ফাঁপর এটা আবার কী জানতে চাইলে বাশারের আরেক বন্ধু বলেন, ফাঁপর বুঝলেন না? ওই যে আইসা জিগায় এইহানে কি করো? বাসায় যাও, নাইলে ধইরা লইয়া যামুগা। এইসবতো ফাঁপরই। হেগো কোনো কাম নাই আমগোর তো বন্ধু-বান্ধব আছে, বাসায় থাকতে ভাল্লাগে না তাই আড্ডা দেই।

এখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে প্রায় ছয় লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, পঁচিশ হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে। এখন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এমন তাদের জানালে বাশার বাহিনীর একজন বলে উঠে, ‘কই এতো মানুষ মরতাছে কিন্তু বাংলাদেশে অহনতরী একজনওবি মরে নাই।’ পাঁচজনের মৃত্যুও কথা জানালে তাদেরই একজন বলে উঠে, এখন যেমনেই মরে সরকার কইবো করোনায় মরছে।’

বাশার বাহিনীর মতো আরো গোটা ত্রিশেক তরুণ এই এলাকায় এখনও দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো কিছু¦ই জানে না তারা। একই পরিস্থিতি এর পার্শ্ববর্তী মান্ডা ৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ডেরও।

এই বিষয়ে মুগদা থানার অফিসার ইনচাজ প্রলয় কুমরা সাহা ঢাকা টাইমসকে বলেন, মুগদা-মান্ডা পাশাপাশি তিনটি ওয়ার্ড, এই এলাকায় বেশিরভাগ নি¤œ আয়ের মানুষের বসবাস, তারা বেশিরভাগই রাস্তায় ভিড় কওে, আড্ডা দেয়। আমরা কাউন্সিলরদের নিয়ে কাজ করছি। তবে তরুণদের মধ্যে আইন মানছে না অনেকে। প্রয়োজনে আমরা আর কঠোর হবো।

মুগদা ৬ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ভাট্টি ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমরা সরকার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে কাজ করছি। সারাদিনই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে টহল করছি। সবাই ঘরে থাকলে তরুণ ছেলেপেলেদেরকে ঘরে নেওয়া একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এদেরকে বাসায় দিয়ে আসলেও রাস্তায় চলে আসছে। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ওদের বুঝতে হবে। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar