চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে প্রতিনিয়ত বন উজাড়ের কারণে পাহাড়ে খাবার সংকট, আবসস্থল ধ্বংস করা ছাড়াও পুরোনো চলাচল পথে বাধা পেয়ে তিনটি বন্যহাতি চকরিয়ার লোকালয়ে চলে আসলে । গতকাল রবিবার ভোররাত তিনটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘন্টা পর তাণ্ডব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে হাতিগুলো ফিরে যায়।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারি তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আনুমানিক ৩৫ বছরের একটি মাদী হাতির সঙ্গে ৫ বছর ও ২ বছর বয়সী দুটি বাচ্চা হাতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা থেকে খাবারের সন্ধানে বের হয় শনিবার রাতে। কিন্তু এসব হাতি পুরোনো চলাচল পথে বাধা পেয়ে দিকভ্রান্ত হলে একপর্যায়ে প্রথমে চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা এলাকার একটি মাজারের পাশে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে রাত তিনটার দিকে হাতিগুলো চলে আসে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কোনাখালীর বাঘগুজারা পুরুত্যাখালী এলাকার মাতামুহুরী নদীর তীরে লোকালয়ে।
তিনি জানান, ভোরের আলো ফুটার পর পরই স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ির কাছে মরিচ ক্ষেতে তিনটি বন্যহাতি অবস্থান দেখতে পান। এর পরই বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক হাজারো মানুষের ভিড় পড়ে যায় সেখানে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁর (পার্ক কর্মকর্তা মাজহার) নেতৃত্বে অকুস্থলে ছুটে যান পার্কের সহকারি ভেটেরিনারী সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান, ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন, বনপ্রহরী ফকরুল ইসলাম, দুই মাহুত মো. ফারুক ও ভাগ্যধন চাকমা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ও বেশকয়েকজন গ্রাম্য পুলিশ। পরে টিম গঠন করে এবং নতুন চলাচল পথ নির্ধারণপূর্বক হাতিগুলোকে লোকালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। অবশেষে অবস্থানের প্রায় ১২ ঘন্টা পর হাতিগুলো পানি সাঁতরিয়ে মাতামুহুরী নদী পার হয়ে বরইতলী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দিকে চলে যায়।
পুরুত্যাখালী এলাকার কৃষক জুবাইর আহমদ, সেকাব উদ্দিন জানান, বন্যহাতিগুলো তাদের মরিচ ক্ষেতে অবস্থান নেওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে হাতিগুলো ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিতে গিয়ে এক নারী পড়ে গেয়ে তার হাত ভেঙে যায়। তবে জানমালের বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এসব হাতি করেনি বলেও দুই কৃষক জানান।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং যাদের বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে তাদের শনাক্তপূর্বক তালিকা জমা দিতে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930