তীব্র লড়াই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও কারেন বিদ্রোহীদের থাই সীমান্তের কাছে

54

আজ মঙ্গলবার খুব সকাল থেকে ভারি ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর একটি আউটপোস্ট এলাকায় । এই এলাকাটি জাতিগত কারেন আর্মি নিয়ন্ত্রিত। ক্যারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) বলেছে, তারা সেনাবাহিনীর ওই আউটপোস্ট বা অবস্থান নিজেদের দখলে নিয়েছে। গত ১লা ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটাই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র লড়াই। উল্লেখ্য, এটা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন আসিয়ান নেতারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে সহিংসতা বন্ধে ‘ঐকমত্যে’ পৌঁছেন মাত্র কয়েকদিন আগে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের সালউইন নদীর তীরজুড়ে যেসব গ্রাম, তার বাসিন্দারা বলেছেন, সূর্যোদয়ের আগে ভারি বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেছেন কেউ কেউ।

তাতে দেখা যায়, ঘনজঙ্গলে পূর্ণ পাহাড়ের অপর পাশে আকাশে উঠে গেছে অগ্নিশিখা এবং কালো ধোয়া। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান পাদোহ সা তা নি রয়টার্সকে বলেছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সেনাবাহিনীর ওই আউটপোস্ট দখল করে নিয়েছে তাদের বাহিনী। তিনি আরো বলেছেন, সেনাবাহিনীর ওই ক্যাম্প দখল করে নিয়ে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারা পরীক্ষা করে দেখছে এতে কি পরিমাণ মানুষ মারা গেছেন অথবা আহত হয়েছেন। ওই মুখপাত্র আরো বলেছেন, অন্যান্য স্থানেও লড়াই চলছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। স্থানীয় মিডিয়া গ্রুপ কারেন ইনফরমেশন সেন্টার বলেছে, সেনাবাহিনীর ওই ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসী দেখেছেন সাতজন সেনা দৌড়ে পালাচ্ছে।

তবে এমন বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা দাবি করে তারাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা বহু জাতিভিত্তিক দেশটিতে কমপক্ষে ৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে ঐকবদ্ধ রেখেছে। তবে সম্প্রতি দেখা গেছে মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ বিরোধী জনগণ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। এতে গুলি করে সামরিক জান্তা হত্যা করেছে কমপক্ষে ৭৫০ জনকে।

থাই সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর যেসব ঘাঁটি বা পোস্ট আছে তার বেশির ভাগই কেএনইউ বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মাই হং সোন প্রদেশের একজন থাই কর্মকর্তা বলেছেন, আজ মঙ্গলবারের লড়াইয়ে থাইল্যান্ডে একজন আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ১লা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে লিপ্ত কেএনইউ। কারেন এই গ্রুপটি বলেছে, কয়েক সপ্তাহে সহিংসতার কারণে ২৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের বিমান হামলার কারণে এমন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন মানুষ। তারা জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন।
মিয়ানমারে কমপক্ষে দুই ডজন এমন সশস্ত্র গ্রুপ আছে। তারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আছে, এমন বিরোধীদের সমর্থন দিয়েছে।