Home / আর্ন্তজাতিক / তুরস্ক যে কারণে ইসরাইলকে কাছে টানতে চাইছে

তুরস্ক যে কারণে ইসরাইলকে কাছে টানতে চাইছে

দেশটি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। এই উদ্দেশ্যে তেল আবিবে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে । তবে এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে কেনো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করতে চাচ্ছে তুরস্ক! মার্কিন গণমাধ্যম আল-মনিটর জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গবেষক উফুক উলুতাসকে রাষ্ট্রদূত করে তেল আবিবে পাঠিয়েছে তুরস্ক। উলুতাস পেশাদার কূটনীতিক না হলেও তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। হিব্রু ভাষা জানা উলুতাস মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। আল-মনিটর অবশ্য জানিয়েছে, তুরস্ককে ইসরাইলের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে উলুতাসকে ভালই কাঠখড় পোড়াতে হবে।

দীর্ঘদিন ইসরাইলের সঙ্গে এক ধরণের বৈরিতা দেখানোর প্রবণতা দেখা গেছে তুরস্কের। যদিও ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য চলেছে পুরোদমেই।

তুরস্কের পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাবে, গত আট বছরে প্রতিবছর বাণিজ্য হয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলারের মতো। চলতি বছরের গত ১০ মাসে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে তুরস্ক যেভাবে ইসরাইলকে কাছে টানতে চাইছে তাতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের বাণিজ্য আরো বেড়ে যাবে। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগান শুধু বাণিজ্যের কথাই ভাবেননি। বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সুবিধা পেতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সম্প্রতি ইসরাইলের দিকে ঝুঁকেছে। বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিয়েছে। ফলে ইসরাইলও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে এরদোগান সরকারের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা কার্যক্রমকে বাড়াবাড়ি মনে করছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষই তুরস্ককে ভিন্ন কারণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমনিতেই গত এক দশকে লাগাতার খারাপ হচ্ছে তুরস্কের অর্থনীতি। মুদ্রা লিরার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে। তুর্কি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলোতেও। সব মিলিয়ে দূরাবস্থা থেকে মুক্তি চাইছেন এরদোগান। আর এ জন্যেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কন্নয়নের চেষ্টা করছেন তিনি।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জো বাইডেন। তার প্রশাসন মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে অধিক সক্রিয় হয়ে উঠবে। এ নিয়ে চিন্তিত এরদোগান প্রশাসন। পাশাপাশি, সিরিয়া, লিবিয়া ও ককেশাস অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব হটিয়ে দেবে বাইডেন প্রশাসন এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
আল-জাজিরাকে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক লিসেল হিনৎজ এ নিয়ে বলেন, এরদোগান নিজেকে মুসলিমদের কথিত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। মুসলিমদের এ আবেগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশে ও দেশের বাইরেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। আবার তিনিই এখন অর্থনৈতিক দূরাবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছেন। এটিকেও হয়ত তিনি তুরস্কের বিজয় বলেই তুলে ধরবেন।

তুরস্কের কূটনীতিকরাও একই কথা বলছেন। ভূমধ্যসাগরের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্ক বাইরে খুব শক্ত কথা বললেও তারা নিজেদের দুর্বলতা সম্পর্কে জানে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্ক এখন পুরোপুরি একা হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিও আর সমর্থন দিচ্ছে না। আরব রাষ্ট্রগুলোও ইসরাইলের দিকে ঝুঁকছে আবার তুরস্কের সঙ্গেও আরবদের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে বাধ্য হচ্ছে তুরস্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: