‘ তৃতীয় পক্ষ উস্কানি দেয় বিভাজন সৃষ্টিতে’

10

তৃতীয় পক্ষ উস্কানি দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হোসাইন মনে করেন- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসের মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস রয়েছে তবে কখনো কখনো এখানে বিভাজন সৃষ্টিতে। কারা সেই উস্কানিদাতা এবং কেন এটা করে? তা খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিস্টার হোসাইন বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান ও হিন্দু একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। সামগ্রিকভাবে এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তবে কেউ কেউ বিভাজন সৃষ্টি ও সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছে। সংঘাত সৃষ্টির এসব ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনার আমরা নিন্দা জানাই।
তবে কারা সেই তৃতীয় পক্ষ বলে তার ধারণা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর জেনেছি তাদের মূল্যায়ন, শান্তিপূর্ণভাবে তারা বসবাস করছেন। এখন যারা বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সুযোগ দিতে পারি না। কারা এর জন্য দায়ী সেটা পুলিশ তথা প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর সামপ্রতিক হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ধর্মভিত্তিক দলের উত্থান ঠেকাতে বর্তমান সরকার অনেক ক্ষেত্রেই সফল। এ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ বা অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে। এটা আমরা তাকে আশ্বস্ত করেছি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যার যে মামলা চলছে তাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে মার্কিন বিশেষ দূত আশ্বস্ত করেন। উল্লেখ্য, একই দিনে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ব্যাক টু ব্যাক বৈঠকের পর ব্রিফিং করেন প্রতিমন্ত্রী মিস্টার আলম। সেখানে তিনি বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট লার্জ পদে প্রথম একজন মুসলিম হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশাদ হোসাইনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছি। ধর্মীয় ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে কেউ ধর্মীয় সংখ্যালঘু নয় দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু যখন চ্যালেঞ্জগুলো আসবে তখন বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো সেই বাস্তবতা অনুধাবন করে পদক্ষেপ নেন আমরা সেটাই বলেছি। রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধর্মীয় বিষয়গুলো উপমহাদেশে অন্যরূপ নিয়ে থাকে। এটিকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মার্কিন দূতের সঙ্গে কুমিল্লায় ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পর আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটি তাকে ব্যাখ্যা করেছি। সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ধর্মীয় সমপ্রীতির জায়গা থেকে খুব সহজেই বিষয়টিকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে সামাজিক গণমাধ্যম। যদি সরকারের পক্ষ দ্রুত প্রতিহতমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয় এবং নীতি-সহায়তা যদি পর্যাপ্ত না থাকে তাহলে এটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে ধর্মীয় সমপ্রীতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান যে চ্যালেঞ্জ; কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে। তার পর পর আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছি সেটা তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো কেন ঘটছে সেটা জানাতে গিয়ে আমি বলেছি, ধর্মভিত্তিক দলের উত্থান একটা পর্যায়ে বাংলাদেশে হয়েছিল। যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে এবং এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় রাশাদ হোসাইন বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেককে আমরা ভাসানচরে স্থানান্তর করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বেশি অর্থ সহযোগিতা দেয়। ভাসানচরে তাদের কাজ, শিক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করেছে; সেটা আমাদের বিবেচনায় আছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো করেছি।
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা একেবারে অগ্রহণযোগ্য: ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা একেবারে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা দেখছি রমজান মাসে ইসরাইলিরা আবারো ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করেছে। এটা একেবারে অগ্রহণযোগ্য এবং আমরা এটার জোরালো প্রতিবাদ জানাই। এ সময় তিনি সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর নিন্দাও করেন। এর আগে সুইডেনের কয়েকটি শহরে উগ্র ডানপন্থিদের হাতে কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সম্মান করাতে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। সব পক্ষকে সংযত আচরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় হতাহতের ফলে বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, মার্কিন দূত ঢাকায় চারদিন কাটিয়েছেন। রাতে তিনি কাতার এয়ারের ফ্লাইটে বাংলাদেশ ছেড়ে যান।