Home / আর্ন্তজাতিক / ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের পর এবার চীন বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে এমনটাই জানা গেছে। বৈঠকে সন্ত্রাস, কাউন্টার টেরোরিজম, মাদক ও সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শিগগিরই বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দুদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিগুলো হচ্ছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, পুলিশের ষরঞ্জামাদি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।
সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্টিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিয়েছেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ঝাও কেঝি।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি বিষয়ে চুক্তি ছাড়াও বৈঠকে ভিসা সহজীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়ার ব্যাপারে চীন চিন্তা করছে। কারণ, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই চীনের নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে।
বৈঠকে আন্তঃ সীমান্ত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাইবার ক্রাইম এই তিন ইস্যুতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে উভয়পক্ষ সন্মত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন যেন মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশ তা পূনর্ব্যাক্ত করেছে। বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদল বলেছে, চীন বিশ্বাস করে যারা বাংলাদেশে এসেছে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। প্রতিনিধিদল দ্বীপক্ষীয় চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নেরও তাগিদ দিয়েছে। তারা দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে।
বৈঠকে চীনা বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল জানান, চীনা বিনিয়োগ এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করায় তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীন বিভিন্ন সংস্থা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন। ওই দিনই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। চীনের মন্ত্রী সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: