Home / রাজনীতি / দাবি ফখরুলের সরকারের এজেন্টরা গাড়ি পোড়ায়

দাবি ফখরুলের সরকারের এজেন্টরা গাড়ি পোড়ায়

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন হঠাৎ করে রাজধানীতে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে , ‘দেশে গণতন্ত্র না থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা এমন নাশকতা চালায়। সরকারের কিছু এজেন্ট থাকে, যারা সাবোটাজ করে। ভালো আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে গাড়ি পুড়িয়ে নাশকতার সৃষ্টি করে। এমন নাশকতার তীব্র নিন্দা জানাই।’

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের এজেন্টরা আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে গাড়ি পুড়িয়েছে- এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘প্রথমে এক-এগারোর সরকারের লক্ষ্য ছিলো মাইনাস টু। পরবর্তীতে তারা মাইনাস ওয়ান বাস্তবায়ন করে। আর তাদের এ কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সে সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে এক-এগারোর সরকারের সকল কাজের বৈধতা দেবেন। সেজন্যই ক্ষমতায় এসেই তিনি বিএনপিকে নির্মূল করতে থাকেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে হরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যাতে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়। গণতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না। এটাই বড় সমস্যা। কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। যা গণতন্ত্রের জন্য ভালো ফল আনেনি, আনবেও না।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মানসিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। আমাদের রাজনীতিতে তার প্রভাব রয়েছে। তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি, যাবেনও না। তার অস্তিত্ব গভীরভাবে দেশের জনগণের মাঝে রয়েছে।’

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার চিকিৎসার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়াটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।’

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘মতের অমিলের’ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। প্রতি শনিবার আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

‘বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য অন্তরায়’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য বড় অন্তরায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নয়। তারাই দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশের গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় আওয়ামী লীগ। বাকশাল গঠন করে তারাই এ দেশের গণতন্ত্রের কবর দিয়েছিলেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন করেছেন তারা। যা গণতন্ত্রের পক্ষে নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে পলিটিক্যাল এজেন্ডা একটাই- প্রকৃত জনগণের সরকার, সংসদ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া কোনোভাবেই বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা প্রতিনিধিত্বশীল সরকার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সংসদে জনগণের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে আইন পাস হয়। যা জনগণের কোনো কাজে লাগে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রকাশ্য এক সভায় বলেছিলেন- ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার আশেপাশে সিনসিয়ার লিডারশিপ তৈরি করতে পারেননি’- দলীয় নেতার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তার আশেপাশে বিশ্বস্ত এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেননি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মঈনুল আহসানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। এতে মির্জা ফখরুলের জীবনী পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: