প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘বাইরের থাবা এসেছে’ মন্তব্য করে , দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বাঁচাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ভোট আয়োজনের নানা পদক্ষেপের মধ্যে ‘বিদেশিদের হস্তক্ষেপ ও তৎপরতা দুঃখজনক বাস্তবতা’ বলেও উল্লেখ করেন সিইসি। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল আগারগাওঁয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে বিচারিক হাকিমদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আরেকটি দুর্ভাগ্যজনক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমাদের নির্বাচনে বাহির থেকেও থাবা, হাত এসে পড়েছে। তারা থাবা বিস্তার করে রেখেছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ভবিষ্যৎ, পোশাক শিল্পসহ অনেক কিছুই রক্ষা করতে হলে এই নির্বাচনটাকে ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল করতে হবে।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন বিবৃতির প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমাকে যেভাবে ইউনাইটেড স্টেট কমান্ড করতে পারে। আমি সেভাবে ইউনাইটেড স্টেটেসে গিয়ে হুমকি–ধামকি দিতে পারছি না, পারব না। এটা আরেকটা বাস্তবতা।’

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘বিভক্তি’ সিইসির ভাষায় ‘অনাকাঙ্খিত’। তিনি বলেন, ‘ওরা (বিদেশি) একটাই দাবি করে যে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনটা ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল হতে হবে এবং কোনোরকম কারচুপির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। এই নির্বাচনের ফেয়ারনেসকে উপলক্ষ করে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে গেছে। এটি কাঙ্ক্ষিত ছিল না। সেজন্যই বলা হয় ক্রেডিবল ইলেকশন। ইলেকশন জিনিসটা কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য, চোখে দেখা যায় না, যাবেও না। তারপরেও বলা হয় নির্বাচন ক্রেডিবল, ফ্রি হয়েছে কিনা, ফেয়ার হয়েছে কিনা। এই পাবলিক পারসেপশনের কোনো মানদণ্ড নেই। তবুও জনগণকে বলতে হবে নির্বাচন ফ্রি এবং ফেয়ার হয়েছে। সার্বিকভাবে যদি জনগণ বলে থাকে যে, এবারের নির্বাচনটা ফ্রি ফেয়ার এবং ক্রেডিবল হয়েছে, তাহলে এটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমরা একটা ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন চাচ্ছি।’

সাহসিকতা ও সততা নিয়ে বিচারিক হাকিমদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন সিইসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুরে উপ–নির্বাচনে সিল মারার ঘটনার পর নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার উদাহরণও টানেন। বিচারিক হাকিমদের উদ্দেশ্যে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘সিল মারাটা নির্বাচনের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। পেশি শক্তির ব্যবহার করা, কালো টাকা ব্যবহার করা এবং কারচুপি করা, দীর্ঘদিন ধরে চর্চার মাধ্যমে একটা অপসংস্কৃতির চর্চা হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরা নিরন্তর চেষ্ট করছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।’

প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট শুরুর ২১ দিনের আগে প্রার্থী প্রচারণা করতে পারবেন না। হয়ত সভা করতে পারবে। এর আগে কোনো প্রচারণা রকম করতে পারবেন না।’

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728