Home / আদালত / হাইকোর্ট মো. আরমানকে দ্রুত মুক্তি ও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

হাইকোর্ট মো. আরমানকে দ্রুত মুক্তি ও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

হাইকোর্ট বিনা অপরাধে প্রায় ৫ বছর কারাগারে থাকা রাজধানীর পল্লবীর বেনারসি পল্লীর কারিগর মো. আরমানকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ডিএমপি কমিশনারকে  ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে  নির্দেশ দিয়েছেন। আরমানকে আসামি করার ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১৪ ফেব্রয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। পরে রিটকারী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব  বলেন, বেনারসি পল্লীর কারিগর মো. আরমানকে মুক্তি এবং তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া  আরমানকে আসামি করার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০শে আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করে ডিবি। এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ওই বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুই বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন। কিন্তু তিনি আর আদালতে হাজির হননি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তিনি ২০১১ সালের ১৭ই জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১লা অক্টোবর রায় দেন ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। কিন্তু রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে আবারো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৭শে জানুয়ারি পুলিশ মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে। মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের পিতার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আরমানের পিতার নামও ইয়াসিন। উভয় ইয়াসিনই মৃত। সেই থেকে কারাগারে আরমান।

আরমানকে কারাগারে বন্দি রাখা নিয়ে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২১শে এপ্রিল ভুল আসামি হয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে কারাগারে থাকা মো. আরমানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা ও মুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পল্লবীর ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। ২৩শে এপ্রিল কারাগারে থাকা পল্লবীর বেনারসি পল্লীর কারিগর মো. আরমানকে কেন মুক্তি দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে মো. আরমানকে কারাগারে রাখায় কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: