ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / দয়া করে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুন: প্রধানমন্ত্রী

দয়া করে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেশেও মারাত্মক আকার ধারণ করতে যাওয়ায় দেশবাসীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন । যে যেখানে আছে সেখানে থাকার আহ্বান জানিয়ে, নিজে সুরক্ষিত থাকতে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখতে বলেছেন সরকারপ্রধান।

শনিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনে সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় মাত্র দেড় ঘণ্টার জন্য এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `এখনো বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে আমরা ভালো আছি। আমরা বারবার ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসলে মানুষ কেন যেন বেশি সাহসী হয়ে গেছে। অনেকে মানতেই চায় না। আমি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে নির্দেশনা, সবাই দয়া করে সেটা মেনে চলবেন। তাহলে কেউ করোনা ঝুঁকিতে পড়বেন না।’

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এমন একটি সময়ে এই অধিবেশন বসেছে, আমাদের আরেকটি বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল মুজিবর্ষ উপলক্ষে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য। জাতির জনক তার জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য। আমার তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সুযোগ পেয়েছিলাম।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আমাদের পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। কিন্তু আমরা দুই বোন যে এই সুযোগটাও যে পাবো তার নিশ্চয়তা ছিল না। বিরল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সারা বিশ্বে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হলো যে, করোনা ভাইরাসের মতো একটা ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে বন্দী করে ফেললো। আমার কাছে দেশের মানুষের কল্যাণ, দেশের মানুষের মঙ্গলটাই সব থেকে বড়। কাজেই সেই উৎসব আমরা যেভাবে করার কথা ছিল সেভাবে করিনি।’

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের অনুষ্ঠান, ১৭ মার্চে জন্মশত বার্ষিকী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন আমরা করিনি। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার দিবসটিও আমরা পালন করি। কিন্তু এবার তাও করিনি। কারণ এই করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। যে কারণে আমরা সকল কর্মসূচি স্থগিত করে রেডিও, টেলিভিশন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপন করা হয়েছে।’

‘এত বড় দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা ছিল না’

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ভাইরাসটি দেখা দেয়। আমরা তখন থেকে নজর রাখছিলাম। তখনও আমাদের দেশে প্রাদুর্ভাব আসেনি। যখনই আমরা সম্ভাবনা দেখেছি তখনই পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও আইইডিসিআর যৌথভাবে কাজ শুরু করে। আইইডিসিআরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তারা রাতদিন কাজ করছে। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কন্ট্রোল রুম খুলে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করেনি। এমন অভিজ্ঞতাও তেমন হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাইরাসহ সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আমাদের কোনো পূর্বাভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিতে থাকি।’

চলমান পরিস্থিতিতে মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে এজন্য সরকারের উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমিও নিজেও এসএমএস পাই আপা আমার ঘরে খাবার নেই। সাথে সাথে সেখানে খাবার পৌঁছানো হয়। শুধু সেই ঘরেই নয়, আশেপাশের ঘরেও খাবার পৌঁছে দিই।’

তিনি জানান, দশ টাকা মূল্যের চালের জন্য নতুন করে ৫০ লাখ রেশন কার্ড করে দেবে সরকার। আগে ৫০ লাখ ছিল। সব মিলে এক কোটি হবে। খাদ্যে যেন কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি জায়গায় কাজ করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘৯২ হাজার পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০ হাজার বিতরণ করা হয়েছে। ৭২ হাজার মজুদ রাখা হয়েছে।’

ধান কাটার জন্য কৃষকরা লোক পাচ্ছে না। তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে বলবো কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। ধান কেটে দিয়ে কৃষককে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তাদেরকে কৃষককের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করবে।’

শামসুর রহমান শরীফ দলের শক্ত পিলার ছিলেন’

এর আগে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কলেজে পড়ার সময় থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। ভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন। প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দেশের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি এবং এই রাজনীতি জনগণের কল্যাণে। তিনি (শামসুর রহমান শরীফ) এ কথা চিন্তা করেই রাজনীতি করেছেন। পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি তা পালন করেছেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি সকালের প্রতি গভীর শোক জানাচ্ছি।’

স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ১৯৭৫ সালের দেশের বাইরে ছিলাম,। কিন্তু ছয় বছর পর দেশে ফিরে আসি। ছাত্র বয়সে রাজনীতি করেছি। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিলাম তখন যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি একজন। তার বয়স হয়েছিল ঠিক, ৮০ বছর। কিন্তু তারপরও বলবো তিনি শক্ত পিলার ছিলেন। তার প্রতি আমি শোক জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: