নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নেপথ্যে আধিপত্যের লড়াই

21

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে পাঁচ বছরে অন্তত ১০ বার নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে । আর সর্বশেষ সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘটিত সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলায় আহত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী এই সংঘর্ষ নিয়ে ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আগের দিন রাতে সংঘাতের পর পরের সকাল থেকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও পুলিশের তরফে শুরু থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দুপুরের পর পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হলেও সংঘর্ষ থামাতে বিকাল পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
দীর্ঘ সময়ে সংঘর্ষ চলায় জিম্মি দশায় পড়েন লাখো মানুষ। ঈদের আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কেটে কেন এই হামলার ঘটনা, এর নেপথ্যে কারা- এই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। বিশেষ করে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে যে তথ্য দেয়া হচ্ছে তাতে সংঘর্ষ এত বড় হওয়ার কথা নয়। নিউ মার্কেটের দুটি পক্ষের কর্মচারীদের মারামারির ঘটনার জেরে পুরো ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়বে এটিও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না কেউ কেউ। বলা হচ্ছে, বার বার এমন ঘটনার নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নেপথ্যে ভূমিকা রাখে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে শক্তি প্রদর্শন করে। ঢাকা কলেজের ছাত্রনেতাদের একটি অংশ এই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন এটি পুরনো অভিযোগ। এ কারণে নানা সময়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধ বাধে। এ ছাড়া চাঁদাবাজির হাতবদলের কারণেও ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া দেখা যায় সময়ে সময়ে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষও সময়ে সময়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেন নিজেদের স্বার্থে। গত দুইদিনের ঘটনা রোধে স্থানীয় কোনো পক্ষকেই সক্রিয় অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে ঘটনার সময়ই। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকেও দেখা যায়নি ঘটনাস্থলে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদেরও সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এমন একটি ঘটনার পর কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না কেন। বলা হচ্ছে নানা পক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকায় এখানে সরাসরি কেউ জড়িত হতে চাইছেন না। এ কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। টানা দুইদিন সংঘাতের পর গতকাল বিকালেও নতুন করে উত্তাপ ছড়ায়। নিউ মার্কেটের কিছু দোকান খোলার চেষ্টা হলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি সতর্কতা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে গত ৫ বছরে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ হলেই দুই পক্ষই সড়কে নামে। গাড়ি ভাঙচুর করে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। গত সোমবার রাতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর মার্কেট থেকে চাঁদার বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। তবে এবার ঘটনার সূত্রপাত চাঁদাবাজি থেকে হয়নি এমনটা প্রকাশ হয়েছে। বলা হচ্ছে কর্মচারীদের দুই পক্ষের মারামারির জেরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনা হয় এক পক্ষকে শায়েস্তা করতে।
২০১৭ সালের ৩১শে জানুয়ারি ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মার্কেটের চাঁদার টাকা ভাগাভাগির জেরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়। হোটেলে ফাও খাওয়া এবং চাঁদার টাকার জেরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিউ মার্কেট এলাকায় কোটি কোটি টাকার চাঁদার জন্য তিনটি গ্রুপ সব সময় রেষারেষি অবস্থান করে থাকে। যখনই তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে তখনই তারা নিজেদের লোকদের সড়কে নামিয়ে অরাজকতা করে থাকে। এলাকাওয়ারি ভাগ করে করে এক একটি গ্রুপ মাসোহারা আদায় করে। যখনই এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় কেউ প্রভাব বিস্তার করতে যায় তখনই দুইটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। এ ছাড়াও ঢাকা কলেজের কিছু অসাধু শিক্ষার্থী যারা একটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানার বহন করে তারা নিউ মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন খাবারের হোটেল থেকে ফাউ খাওয়া ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা সময় ক্ষোভ দেখা দেয়।
সুমন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রত্যেকদিন সড়কে ব্যবসা করার জন্য ২০০ টাকা দিয়ে থাকেন। এই টাকা ৪ জনের হাতে তিনি দেন। ৪ জন বড় ভাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে তার কাছে টাকা নিয়ে যায়। সুজন নামে আরেক হকার জানান, একদিন টাকা না দেয়ার জন্য আমাকে পরের দিন সড়কে বসতে দেয়া হয়নি। মারধরও করা হয়েছে। কলেজের এক বড় ভাইকে অনেক অনুরোধ করে পরের দিন তাকে বসতে দেয়া হয়েছে।
নূরজাহান মার্কেটের ব্যবসায়ী আরমান জানান, তাদের মার্কেটে ঢাকা কলেজের কিছু বড় ভাই এসে মহড়া দিয়ে যায়। তার দোকানে খুচরাসহ কিছু মাল বাইরের জেলায়ও ডেলিভারি দেয়। তিনি আরও জানান, একটি ট্রাক এলেই তার আবার ডেলিভারি চার্জ দেয়া লাগে। যদি না দেয়া হয় তাহলে তাদের কাপড়ের ট্রাক পরের দিন ঢুকতে দেয়া হবে না। নিউ মার্কেট এলাকায় ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানটি ভাড়া।
কিছু মালপত্র ফুটপাথে রাখা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সোর্স বলে তার কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়। এখানকার প্রত্যেক দোকানির এ অবস্থা। কথা বললে কেউ পরের দিন আর ব্যবসা করতে পারবে না। আরজু নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের অন্যতম কারণ হচ্ছে মার্কেটে চাঁদাবাজি। যখনই বড় কোনো হট্টগোল হয় তখনই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ক্রেতারা আর আসে না।
তৃতীয় দিনেও উত্তেজনা: ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীদের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের পরের দিন গতকাল সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকালে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকালে ব্যবসায়ীদের দোকান খোলাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সড়কে নামেন। কলেজের মধ্যে থেকে তারা পরপর কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করেন মূল সড়কে। দোকানিরাও রাস্তায় বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকে। রাস্তায় দুইপক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে গেলে মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে কিছু দোকান খুলতে শুরু করায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা। এরপর রাস্তায় বেরিয়ে বিক্ষোভ, ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করেন। তারা সড়কে অবস্থান নিলে দোকান কর্মচারীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। কিছু সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার পর পুলিশ দুই পক্ষকেই মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সাড়ে পাঁচটার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এর আগে সকাল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দোকানপাট খোলেননি ব্যবসায়ীরা। কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল সাধারণ মানুষ। দোকান না খুললেও ব্যবসায়ীরা সকাল থেকেই দোকানের আশপাশে অবস্থান নেন।
নিউ মার্কেট দ্রুতই খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত: এর আগে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার দোকানগুলো দ্রুতই খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন। গতকাল শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। ঢাকা কলেজের প্রশাসনকে নিয়ে আমরা কমিটি গঠন করবো। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা আর না ঘটে। তদন্ত কমিটি গঠন করে যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করবো। আজ এখনই দু’পক্ষের আলোচনার মধ্যে দোকান খোলা হবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি মীমাংসা করবেন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমরা নিউ মার্কেট এলাকার দোকান মালিক এবং কর্মচারীদের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কোনো উস্কানিমূলক কথা না বলার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। পাশাপাশি ছাত্রদের এবং শিক্ষক ভাইদেরকেও সহনশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সেই দিনই ব্যবস্থা নেয়া হবে যখন থেকে তারা এভেইলেবল হবে। আশেপাশের মার্কেটের সব দোকান বন্ধ। পরিস্থিতি আজকে এখানে আসছে। এখানে বরাদ্দ প্রাপক মালিক একজন থাকে। উনি অনেকসময় আবার ভাড়া দিয়ে থাকেন। এখানে বলা হচ্ছে, মূল মালিক একজন। উনি ভাড়া দিয়েছেন আরও দু’জনকে। তারা নিজেরা আত্মীয়-স্বজন। এদের কাছে যে দু’জন কর্মচারী ছিল, যারা ঝগড়া করেছে। তাদের একজন নিয়ে আসছে। প্রকৃত ঘটনা শুনছি যে, ঢাকা কলেজের ছাত্ররা আসছিল, তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। ঢাকা কলেজের সঙ্গে বহুদিন ধরে আমরা একসঙ্গে আছি, তারা আমাদের ভাই।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হয় কিনা সেটা দেখার পরে বোঝা যাবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। ব্যবসায়ীরা অনেক সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হবেন। এম্বুলেন্সের মতো গাড়ি যারা ভেঙেছেন আমি মনে করি তাদের কোনো বোধ শক্তি নেই। একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা এই কাজ করেছে। তৃতীয় পক্ষ এই কাজ করেছে। আমরা যদি প্রমাণ পাই কোনো ব্যবসায়ী এই কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা অনুরোধ করবো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এ ঘটনায় যিনি নিহত হয়েছেন এর দায়ভার নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুই দোকান থেকে যে ঘটনা শুরু তা আর সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমরা এই জন্য প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যে যেই দোষী হবেন তার ঘাড়ে এই দায় চাপাতে হবে।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি: এদিকে দুপুরে সাত কলেজ আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে তাদের এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারসহ চার দফা দাবির কথা জানিয়েছেন। সাত কলেজ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল সম্‌্রাট বলেন, আমরা চার দফা দাবি নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। সেইসঙ্গে আহতদের সকল চিকিৎসা খরচ বহন করতে হবে। হল ক্যাম্পাস খোলা রেখে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। হামলাকারী এডিসি হারুন সাহেবকে প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।
গতকাল বিকালে দুইপক্ষ মুখোমুখি হলে ঘটনাস্থলে এসে ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল কুদ্দুস সিকদার বলেন, দোকান মালিক সমিতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে মানছে না। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এই জায়গায় একটু ধৈর্যশীল হওয়ার দরকার ছিল। যেহেতু আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে সেই সময় এসে কয়েকটা দোকান খুলে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এটার মাধ্যমে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আমরা এটা চাই না। আমরা চাই সমাধান। বিকাল থেকেই তাদের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা একটা সমাধানের অপেক্ষায় আছি।