নিজেকে রক্ষার অধিকার থাকবে না পুলিশ আক্রান্ত হলে ?

16

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিছিল সমাবেশে সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য দলটির নেতাদেরই দায়ী করেছেন বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মিছিল নিয়ে কেউ কিছু বলছে না জানিয়ে। বিরোধী দলের আন্দোলনে বাধা না দিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা আবারও সংসদে তুলে ধরে তিনি আন্দোলনের নামে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পেতে বিএনপি নেতাদের এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার বর্ণনাও দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংসদের ঊনবিংশতম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি তো আন্দোলন করার কথা বলছি না। আমি বলেছি মিছিল করেন, আন্দোলন করেন শান্তিপূর্ণ। কেউ কিচ্ছু বলবে না। যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে সেখানে তো কেউ কিছু বলছে না। কিন্তু এরা তো মাঠে নেমেই আগে কোথায় কাকে আক্রমণ করবে, কিভাবে একটা সিচুয়েশন তৈরি করবে…। বিএনপি নেতাদের এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টার কারণ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, কারণটা হল এমনি মিছিল টিছিল করলে তো মিডিয়াতে কভারেজ পাবে না। মিডিয়াতে কভারেজ পাওয়ার জন্যই তারা এমন একটা ঘটনা ঘটাবে যে তারা একটু ইয়ে পায়। খবর বিডিনিউজের।
এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই সেই ক্ষেত্রে আজকে বাংলাদেশ বিরোধী দল আন্দোলন করবে। হ্যাঁ, আমি বলেছি পুলিশকে যে কিছু না বলার জন্য। এটা ঠিক। কিন্তু পুলিশ তো আগ বাড়িয়ে কিছু করেনি। যে কোনো একটা মানুষ পুলিশ বাদে একটা মানুষ যদি আক্রান্ত হয় তার নিজেকে বাঁচাবার অধিকার আছে। সেটা কি নাই? না, পুলিশ হলে তারা আক্রান্ত হলেও তারা নিজেকে রক্ষার করার কোনো অধিকার থাকবে না? উনার কথায় মনে হয় তারা বোমা ছুঁড়বে, লাঠি মারবে, ঢিল মারবে, গুলি করবে সব করবে। তাদের কিছু বলা যাবে না।
ভোলায় বিএনপি কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদের সময় রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের খুব খারাপ অবস্থা বলে উল্লেখ করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সরকারে এসেছিল; তারা খুনিদেরকে বিচারের হাত থেকে রেহাই দিতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল বলে তুলে ধরেন।
বিএনপি ও সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে গুম, খুনের যে অভিযোগ করে আসছে সেটির জবাবে সংসদে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের পর নিহত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের অভিযোগের এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অরাজকতা ও নির্যাতনের তথ্য সম্বলিতে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, যাদের হাতে রক্তের ছাপ, যাদের উত্থানই হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে, জাতির জনক, তার পরিবারের সকলকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যে দলের জন্ম তাদের কাছ থেকে আমাদেরকে গণতন্ত্রের শিক্ষা নিতে হয়।
লন্ডনে তারেক রহমানের বাড়ি, গাড়ি, কাজের লোক সবই আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কমতি তো দেখি না। কত টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে এবং প্রতিদিন এখান থেকে তাদের জন্য কত টাকা যাচ্ছে সেটাই খুঁজে বের করা দরকার। যে কত টাকা এভাবে বাইরে যাচ্ছে, পাচার হচ্ছে এবং সেটাও আমাদের তদন্ত করা দরকার।