Home / ফিচার / নোবেলজয়ী ইউনূসের করোনায় দেশবাসীর জন্য কী বার্তা ?

নোবেলজয়ী ইউনূসের করোনায় দেশবাসীর জন্য কী বার্তা ?

বিশ্ব করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে। ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। কর্মহীন হয়ে পড়ছে বিপুল মানুষ। এই পরিস্থিতিতে দেশের সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়েও হচ্ছে ত্রাণ বিতরণ। এই দুর্যোগে বিপাকে আছেন তৃণমূলের দরিদ্রজনগোষ্ঠী। অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে যার হাত ধরে শুরু হয়েছিল ‘সামাজিক ব্যবসা’ নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন কোথায়? কী করছেন তিনি? এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরেই উঠে আসছে বিভিন্ন মহলে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্টজনেরা সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন। কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ সুপরামর্শ দিয়ে কেউবা সরাসরি সেবা দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও চলছে অর্থনৈতিক সংকট। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে সুপরামর্শ দিয়ে পাশে আছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

বসে নেই সদ্য নোবেল বিজয়ী আরেক অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জিও। সাধারণের অর্থাভাব দূর করতে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে তাদের দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই বিচারে আমাদের নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। ভিডিও বার্তায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বলার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করছেন না।

সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ দেশের একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন পোর্টালের বাংলা ভার্সনে ‘করোনা মহামারি: সময় দ্রুত হারিয়ে ফেলছি’ শিরোনামে একটি কলাম লিখেছিলেন তিনি। তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই বলছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্নমহল।

শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিরা বলছেন, এই ধরনের সংকটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসদের মতো বিজ্ঞদের সরব উপস্থিতি খুবই প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হওয়াতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেও জনগণের পাশে থাকা যায়। অনেকেই ভিডিও বার্তায় দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বলছেন। সেখানে ড. ইউনূসের মতো মানুষের নীরব ভূমিকা কাঙ্ক্ষিত নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুর্যোগ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। চিকিৎসকরাও যে যার জায়গা থেকে করোনা মোকাবিলায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। সেখানে অর্থনীতিবিদ, সমাজবিশ্লেষক ব্যক্তিদেরও সরব উপস্থিতি প্রয়োজন। কারণ যে সংকট তৈরি হয়েছে বা বিশ্ব যেই পথে যাচ্ছে সেখানে সব খাতের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবু সালেহ সেকেন্দার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘করোনাসংকটকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসদের মতো ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা জরুরি। কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি সফল প্রতিষ্ঠানের জনক। তিনি চাইলে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে জনগণের পাশে দাঁড়োনোর সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ নানাভাবে অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সেখানে দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নীরবতা বিস্ময়কর। দুর্যোগে মানুষ সমাজের বুদ্ধিজীবীদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কিন্তু তারা যদি নীরব থাকেন তখন বলার কিছু থাকে না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি ঘরেই আছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সবাইকে ঘরে থাকতে বলছেন। তিনি এই বিধি মেনে চলছেন। তবে তার উদ্যোগ ও নির্দেশনায় গ্রামীণ টেলিকমসহ গ্রামীণের প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক ঘনিষ্ঠজন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে না এলেও তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানো এখন আমাদের বড় প্রয়োজন। এজন্য বিদেশ থেকে মাস্ক, গ্লাভস, প্রটেকটিভ গগলস্ আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ত্রিশ হাজার পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। উচ্চমানের ২০ হাজার পিস পিপিই তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কাপড় ও সীম সিলিং টেপ আমদানি করা হচ্ছে।

এছাড়া বস্তিতে বসবাসরাত অতিদরিদ্র মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়েছে গ্রামীণ শিক্ষা। তবে তা কেবল ঢাকার সিটি করপোরশন এলাকার মধ্যেই সীমিত। করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য ‘করোনা বিমা’ চালু করেছে। ডিজিটাল হেল্থ (ডিএইচ) এক লাখ মানুষকে এই বিমা সহায়তা দেবে। এটিও ড. ইউনূসের প্রবর্তিত এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান। এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেই করা হচ্ছে।

তবে এর বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নোবেলজয়ী ইউনূসের যে ধরনের উদ্যোগ বা তৎপরতা কাম্য ছিল তা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, অর্থনীতির সংকট মোকাবিলা বা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যে দুঃসময় পার করছেন তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা নেই তার। এই সময় এটি বেশি প্রয়োজন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: