নো ফ্লাই জোন, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা, ব্যাংক একাউন্ট জব্দের আহ্বান মিয়ানমারে

149

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাইওয়া মোয়ে তুন তার নিজের দেশের বিরুদ্ধে নো ফ্লাই জোন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক জান্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটিতে অব্যাহতভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। অনলাইন আল জাজিরা বলছে, অনেক মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে মিয়ানমারে। শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক বৈঠকে বসে। সেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশগুলো। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান সামিটে মিয়ানমার সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এখনও নিজের ভাষায় কথা বলছে। তার দেশে জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূতের প্রবেশে অনুমোদন দিচ্ছে না।

১লা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানে সামরিক জান্তা ক্ষমতাচ্যুত করে অং সান সুচিকে।

কিন্তু সামরিক জান্তার পক্ষ অবলম্বন করতে অস্বীকৃতি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাইওয়া মোয়ে তুন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, মিয়ানমারে শিশু সহ শত শত মানুষ মারা যাওয়া সত্ত্বেও সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও শক্তিশালী পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কাউন্সিলে যোগ দেন। এ সময় বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মিয়ানমারে এই নৃশংসতা চলতে দিতে পারে না জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সব রকম সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে আরো ভয়াবহ দমন পীড়নের তথ্য সামনে আসার পর তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালে মিয়ানমারে কমপক্ষে ৬০ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে সামরিক জান্তা। এ অবস্থায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে গেলে তাতে ভেটে দেবে চীন এবং রাশিয়া। এই দুটি দেশ মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার এসব ভয়াবহ কর্মকা-ের মূল্য সম্পর্কে বোঝা উচিত।