প্রতিদিন তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চালনায়

154

সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার । প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে এই দ্রুতগতির দ্বিচক্রযান। তাতে অকালে ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনজন, আহত হয়েছেন একজন। এর আগের দিন এক দুর্ঘটনায় তিন কিশোরের প্রাণ যায়। গত দুই দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, গাইবান্ধা ও ময়মনসিংহে নয়জন মারা গেছেন। তাদের বেশির ভাগই তরুণ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা। এছাড়া মোটরসাইকেল চালনায় সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা, সড়ক আইন না মানা কিংবা না জানা, লাইসেন্স না থাকা, চ্যালেঞ্জ নিয়ে সড়কে কসরত দেখানো এবং রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্নভাবে আইন ভাঙার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৫৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৮ জন। সড়কে আশঙ্কাজনক হারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বর্তমানে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। দেশে যে হারে যার-তার হাতে মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে, তাতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

তাদের ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ যে, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেল আর প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বেশি। এ ছাড়া দেশে মোটরসাইকেলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং তারা বেপরোয়াভাবে রাস্তায় চলাফেরা করে। এতে নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়ে এবং অন্যকেও ফেলে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সাইদুর রহমান আরও বলেন, সম্প্রতি মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে সিসি বা গতিসীমা উঠিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বলা চলে একেবারে বেপরোয়া হয়ে যাবে।

মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া কিশোর-তরুণরা একদমই ট্রাফিক আইন জানে না কিংবা মানে না। মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম আছে সেগুলো মানা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক মনিটরিং না থাকা, ট্রাফিক আইন ভাঙলে মোটরসাইকেল চালককে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে অবহেলাই অনেক দুর্ঘটনার কারণ।

সাইদুর রহমান বলেন, প্রায়ই দেখা যায় অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় অনেক তরুণ মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যস্ত রাস্তায় বাস-ট্রাক কিংবা প্রাইভেট কারের ফাঁক-ফোকর গলে ছুটতে থাকে। মহাসড়কগুলোতে গতিসীমা বাড়িয়ে কসরত করতে থাকে। ওভারটেক করতে মজা পায়। এসব ক্ষেত্রে একটু বেখাল কিংবা মুহূর্তের জন্য সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ হেলমেট না পরা। কিংবা নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার।

করোনার সময়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণপরিবহনের উন্নয়ন না হওয়ায় মোটরসাইকেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মানুষ নিজের গন্তব্যে যানজট এড়িয়ে সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন মোটরসাইকেল বেছে নিচ্ছে। এর কারণেই মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে গেছে। মানুষ খুব দ্রুত তার গন্তব্যে পৌঁছাতে চায় কিন্তু সে ক্ষেত্রে যানজট ও গণপরিবহন নেই। ফলে সেই সুযোগটি সবাই নিচ্ছে।

দুর্ঘটনা রোধ ও যানজটমুক্ত করতে করণীয় সম্পর্কে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, যানজট এবং দুর্ঘটনা রোধ করতে গেলে অনেক বিষয় চলে আসে। ব্যক্তিগত গাড়ির লাগাম টানতে হলে সবার আগে গণপরিবহনের উন্নয়ন করতে হবে। গণপরিবহনের উন্নয়ন করলে সাধারণ মানুষ যারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহনে যাতায়াত করবে। কিন্তু গণপরিবহনের উন্নয়ন না হলে তারা তো সেই কাজটি করবে না।