ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে তিনটি সেতু ও স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে তিনটি সেতু ও স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ এবং যশোরে তিনটি সড়ক সেতু এবং পাবনায় একটি স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধন করেছেন ।

রবিবার (২২ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবনির্মিত প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেতু উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই তিনটি সেতু মহম্মদপুর, রূপগঞ্জ এবং অভয়নগরবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার।’ প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হচ্ছে : মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতি নদীর উপর এলাংখালী ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ১০০০০ মিটার চেইনেজে ৫৭৬ দশমিক ২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু এবং যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের যশোর-খুলনা সড়কের ভাঙ্গাগেট (বাদামতলা) হতে আমতলা জিসি ভায়া মরিচা, নাউলী বাজার সড়কে ভৈরব নদীর উপর ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু। এছাড়া, উত্তরবেঙ্গের প্রবেশ দ্বার পাবনায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে নবনির্মিত তিনটি সেতু এবং ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর’ এর ওপর দুটি পৃথক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলা এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বড় বাধা মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ৬শ’ মিটার দীর্ঘ ‘শেখ হাসিনা সেতু’। নবনির্মিত সেতুটি মাগুরার মহম্মদপুরের সঙ্গে পূর্বদিকে পদ্মা সেতু সংযুক্ত করবে। ফলে, মহম্মদপুর উপজেলা এবং ঢাকার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৯৮ কি.মি. কমে আসবে। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক সেতু নির্মিত হয়েছে। সেতুটি ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব ১৫ কি.মি. হ্রাস করবে। রূপগঞ্জের জামদানীর জন্য বিখ্যাত তারাবোর দূরত্ব কমিয়ে আনবে রাজধানীর সঙ্গে। যশোরের অভয়নগর উপজেলাকে ভৈরব নদী দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর উভয় পাড়ে উপজেলার ৪টি করে ইউনিয়ন অবস্থিত। কাজেই বিভিন্ন কাজে উপজেলাবাসীকে নদী পার হওয়ার বিড়ম্বনায় পড়তে হত। যে কারণে ভৈরব নদীর ওপর ৭০২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের ফলে নড়াইল জেলার সঙ্গে অভয়নগরের দূরত্ব ২৫ কি.মি হ্রাস পেয়েছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে যশোরের অভয়নগর উপজেলা ভাটিয়াপাড়া হয়ে গোপালগঞ্জ এবং পদ্মাসেতুর সঙ্গে সংযুক্ত হলো। এই সেতুটি ভৈরব নদী বন্দরের কার্যক্রম নদীর পূর্ব পাড়ে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরী করেছে।

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পাবনা টাউন হল প্রতিষ্ঠা হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল মুক্তমঞ্চ নাম দেয় কতৃর্পক্ষ। পরে নতুন আঙ্গিকে নির্মিত চত্বরের ও নামকরণ করা হয়েছে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর।’ স্থানীয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাধীনতা চত্বরের নির্মাণ কাজ চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হয়। এটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটাবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করেন। এখানে প্রতিটি ইট পাথরের নকশায় মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস বিদ্যমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সুচনা লগ্নেই সারা দেশের মধ্যে পাবনা প্রথম হানাদার মুক্ত হয় এবং এখানেই এ জেলার প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: