প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারে জাপান

3

 1464498037-700x336

২৯ মে : জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। আমি চাই বাংলাদেশের এই ঊর্ধ্বমুখী সুযোগ এবং তারুণ্যদ্দীপ্ত জনশক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা আমাদের জাপানি বন্ধুরা ভোগ করুক। রবিবার টোকিওতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরকালীন আবাসস্থল মান্ডারিন ওরিয়েন্টাল হোটেলের লিন্ডেন কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যাওয়া বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও অংশ নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শতাধিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও কিছু আইটি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি। এর মধ্যে ৩৩টির কাজ এগিয়ে চলেছে। আশা করছি, আগামী চার বছরে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদনে আরো এক কোটি মানুষ যুক্ত হবে।

জাপানকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কর্মনিষ্ঠার কারণে জাপানের বিনিয়োগকারীদের সবসময়ই সবার আগে জায়গা দিয়েছে আমাদের জনগণ। সেই বিবেচনা থেকে বলছি, আমাদের দরজা আপনাদের জন্য উন্মুক্ত। আমি চাই বাংলাদেশের এই ঊর্ধ্বমুখী সুযোগ এবং তারুণ্যদ্দীপ্ত জনশক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা আমাদের জাপানি বন্ধুরা ভোগ করুক।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আমরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরো সহজতর করার জন্য কাজ করছি। এখন এ বিষয়ে আপনাদের মতামত ও পরামর্শ শুনবো আমি। আমরা আসলে কার্যকর ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ সুবিধা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কায় না থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার সরকারকে সকল জাপানি নাগরিক ও স্থাপনায় সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আপনারা হয়তো সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশি নাগরিক ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন। আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি, যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে।

বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটেরো) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরের জন্য প্রথম জাপানি স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করছে এফবিসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের প্রাইভেট সেক্টরে নতুন নতুন বিনিয়োগের পথ খোঁজা যাবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ ও নেতা মোহাম্মদ হাবিব উল্ল্যাহ ডনসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং ‘জেটেরো’র শীর্ষ নেতা ও জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।