Home / ফিচার / ‘ প্রবাসীরা দায়ী নন করোনার সংক্রমণের জন্য’
আসিফ নজরুল

‘ প্রবাসীরা দায়ী নন করোনার সংক্রমণের জন্য’

চাকরির সুনির্দিষ্ট অফার ও বহু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমি বিদেশে থেকে যাইনি। আমার পরিবারের কোন মানুষ প্রবাসী না। কিন্তু আমি জানি প্রবাসে যারা আছেন, যারা সাধারণ বা সামান্য কাজ করেন বিদেশে, তারা কতোটা ভালোবাসেন দেশকে। কতোটা অবদান তাদের দেশটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

এই প্রবাসীদের উপর রাগ দেখাচ্ছেন কেউ কেউ। কেন? করোনার সময় দেশে ফিরেছে বলে? কিন্তু পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ এটা করেনি? সব দেশে এটা হয়েছে।

যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতিতে নিজের দেশে ফেরা মানুষের মৌলিক অধিকার। পৃথিবীর কোন দেশ এটা থেকে তার নাগরিকদের বঞ্চিত করতে পারে না। করোনার এ দুঃসময়ে প্রবাসীদের মধ্যে বড়জোর ৫ শতাংশ দেশে ফিরেছেন। দেশে তারা ফিরেছেন রোগ সংক্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে না। তাদের অনেকের অসচেতনতা ছিল হয়তো। কিন্তু তবু করোনার সংক্রমণের জন্য তারা দায়ী না।

দোষ হচ্ছে সরকারের। তাদের উচিত ছিল বিমানবন্দরে উপযুক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রবাসীদের সেখানে আলাদা রেখে টেস্ট করা, শনাক্ত করা। যাদের মধ্যে তখনি করোনার লক্ষণ আছে তাদের উপযুক্ত কোয়ারেন্টাইন (আলাদা আলাদা কক্ষে রেখে, ডাক্তার, নার্স সাপোর্টিং কেয়ারের ব্যবস্থা সহ) করা। তখনো করোনা আক্রান্ত না তাদেরকে বাসায় ১৪ দিন আলাদা থাকার নিয়মকানুন আর গুরুত্ব ভালো করে বুঝিয়ে বলা্। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টা তদাররি করা।

সরকার এর একটা কাজও করেনি। একটা কাজও না। এমনকি হোম কোয়ারেন্টাইন কি সেটাও বুঝিয়ে বলা হয়নি। সামান্য একটা নির্দেশাবলীও তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়নি।

প্রবাসীদের দেশে ফেরা অধিকার। তারা ফিরেছে। তাদের ও দেশের সব মানুষকে নিরাপদ রাখা সরকারের দায়িত্ব। সরকার তা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে প্রবাসীদের মাধ্যমে কোন সংক্রমণ হলে তার দায় কার উপর পড়বে?

প্রবাসীরা ততোটুকু দোষী, যতোটুকু আমরা সবাই। আমরা কি জনসমাগমের নিয়ম মানি? আমরা কি করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানি? আমরা কি বাজার থেকে সীমিত জিনিস কেনার নিয়ম মানি? আমার কি আমাদের পরিবারের একজনও আক্রান্ত হলে বাকিদের প্রতি দায়িত্ব সচেতন থাকি।

পারলে উপযুক্ত জায়গায় ক্ষোভ দেখান। প্রশ্ন তুলেন কথায় কথায় সিঙ্গাপুর আর কানাডা হয়ে গেছি বলা দেশে করোনা শনাক্তকরণের কিট মাত্র ২ হাজার কেন? কেন কোন ডাক্তারের নেই নিরাপদ পোশাক? কেন কোথাও নেই চিকিৎসা ব্যবস্থা। কেন মাত্র চারটা স্ক্যানিং মেশিনের তিনটে থাকে নষ্ট? কোথায় খরচ করা হয়, কিভাবে খরচ হয় আমাদের সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা??

সাধারণ মানুষকে ভালোবাসুন, একজন আরেকজনের সাথে বিবাদে জড়াবেন না। আরো অনেক খারাপ দিন আসছে। আপনি জানেন সরকার কিছু করবে না সাধারণ মানুষের জন্য। করলেও খুব সামান্য।

আপনার পাশে দাড়াবে আপনার প্রতিবেশী, এলাকার মানুষ। আর উপরে আছেন মহান আল্লাহ।

দয়া করে নিজেদের ভালোবাসা, ঐক্য আর সহমর্মিতার শক্তি নষ্ট করেন না। নিজেরা নিজেরা ঝগড়া করেন না।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar