Home / প্রশাসন / ফেনী কারাগারে ধর্ষক ও ধর্ষণের শিকার প্রেমিকার বিয়ে

ফেনী কারাগারে ধর্ষক ও ধর্ষণের শিকার প্রেমিকার বিয়ে

ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন পেতে হাইকোর্টের নির্দেশে ফেনী কারাগারে ধর্ষক ও ধর্ষণের শিকার প্রেমিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ফেনীতে । বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ফেনী জেলা কারাগার চত্বরে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে ফেনীর সোনাগাজীর বাসিন্দা ধর্ষক জিয়াউল হক জিয়া ও ধর্ষণের শিকার তার প্রেমিকার বিয়ে পড়ান কাজী আবদুর রহিম। এ সময় বর-কনেসহ দু’পক্ষের লোকজন, বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১লা নভেম্বর, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশ দেন। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, উভয়পক্ষ সম্মত থাকলে ফেনী জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে এবং বিয়ে সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টকে অবহিত করবে। বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের এমন প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা হলে আদালত আসামিকে জামিনের আদেশ দেবেন। রাষ্ট্র পক্ষেন আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি বলেন, গত ৩০ জুন এ মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরে আসামি উচ্চআদালতে জামিন নিতে এলে বিয়ের শর্ত দেন আদালত।

কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিয়ে হয়ে উচ্চআদালতে প্রমাণপত্র এলে আসামিকে জামিন দেয়া হবে। আদালত মনে করেছে তরুণী এ বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা থেকে রক্ষা পেয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এ দুই পরিবারের দিকে তাকিয়ে হয়তো সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত। সামাজিকতার কথা চিন্তা করেছেন, তবে অপরাধ কমার ক্ষেত্রে এটি কোনো ভূমিকা রাখবে না। আমি মনে করি অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে। আদালত মনে করেছে, যদি আসামি বিয়ে করে, তা হলে এটি ন্যায়বিচার হবে। ভুক্তভোগী বিয়ের মাধ্যমে তার অভিযোগ তুলে নেবে।

ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ারুল করিম জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনাক্রমে গতকাল তাদের বিয়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। সেই মোতাবেক কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মতে জেল সুপারের তত্ত্বাবধানে আইনজীবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দুই পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আলমগীর বলেন, ধর্ষণ মামলায় গত ২৯শে মে আসামি জিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারের পর থেকে সে ফেনী কারাগারে ছিল। নি¤œ আদালতে জামিন না হলে আমি জিয়ার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে মিস মামলা দায়ের করেছিলাম। গত ১লা নভেম্বর আদালত বিয়ের শর্তে আমার মক্কেলকে জামিন দেবার অভিমত ব্যক্ত করে এ আদেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের মাধ্যমে আদালত ন্যায়বিচার করেছে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ফেনীতে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনাও বলছেন এই আইনজীবী।

ছেলের বাবা আবু সুফিয়ান বলেন, আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। হাইকের্টের নির্দেশনা মেনে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তথ্য পাঠানোর পর আশা করি দ্রুত আমার ছেলের মুক্তি মিলবে। জহির মুক্তি পেলে বাড়িতে বড় করে অনুষ্ঠান করে ছেলের বউকে ঘরে তুলে নেবো।

সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, সোনাগাজীর উত্তর চরদরবেশ গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ানের ছেলে জহিরুল ইসলাম জিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভনে গত ২৭শে মে কিশোরী প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে প্রেমিক জহিরুল ইসলাম জিয়া। ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে প্রেমিক জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত ২৯শে মে আসামি জিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: