ফেসবুক যেন শোকবই

23

 

cd168বাঙালির ফেসবুক স্ট্যাটাস পরিণত হয়েছে শোক বার্তায়। ‘ভাত দে হারামজাদা- তা নাহলে মানচিত্র খাব’ খ্যাত কবি রফিক আজাদের মৃত্যুতেই এই শোক সবার। শনিবার সকালে কবির মৃত্যুর পর কবিতাপ্রেমী সব মানুষের হৃদয়েই লেগেছে শোকের ছোঁয়া। তারই বাহিঃপ্রকাশে বাঙালির ফেসবুক হয়ে উঠেছে রফিক আজাদময়। সবাই সদ্য প্রয়াত কবির কোনো কবিতার লাইন, কিংবা তার সঙ্গের কোনো স্মৃতি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন।

এলার্ট নিউজ প্রতিনিধি অনলাইন: তেমনই একজন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘প্রিয় রফিক আজাদ, দুপুরের ঠিক এই সময়টাতেই আমরা কতিপয় ছন্নছাড়া সংসারপালানো মানুষ একত্রিত হতাম আমাদের প্রিয় আড্ডায়। কাকতালীয়ভাবে প্রতি শনিবার আড্ডা থাকত ভর-ভরন্ত সংসারের মতো।
সাংবাদিক জ ই মামুন ফেসবুকে লিখেছেন,
যদি ভালবাসা পাই : রফিক আজাদ
যদি ভালবাসা পাই আবার শুধরে নেব
জীবনের ভুলগুলি
যদি ভালবাসা পাই ব্যাপক দীর্ঘপথে
তুলে নেব ঝোলাঝুলি
যদি ভালবাসা পাই শীতের রাতের শেষে
মখমল দিন পাব
যদি ভালবাসা পাই পাহাড় ডিঙ্গাবো
আর সমুদ্র সাঁতরাবো
যদি ভালবাসা পাই আমার আকাশ হবে
দ্রুত শরতের নীল
যদি ভালবাসা পাই জীবনে আমিও পাব
মধ্য অন্তমিল।
(শ্রদ্ধেয় কবি রফিক আজাদের মৃত্যু সংবাদ শুনে)

অসীম সাহা লিখেছেন,
বাংলাকবিতার রাজপুত্র, সবচেয়ে আধুনিকতা-মনস্ক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাবিষয়ে তুখোড় অনুরাগী্, স্যাড জেনারেশন আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বকবি রফিক আজাদ আর নেই! সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরারদেশের অচেনা জগতে! তাঁর জীবনদীপ নিভে গিয়েছিল আগেই। আজ শুধু আনুষ্ঠানিকঘোষণার মধ্য দিয়ে জানান দেওয়া হলো আমাদের সবচেয়ে প্রিয় অগ্রজ-অজাতশত্রু রফিকআজাদ মত্যুবরণ করেছেন। রফিক ভাইয়েরসঙ্গে আমারএত স্মৃতির স্তূপ জড়ো হয়ে আছে যে, তা লিখতে গেলে হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়েযাবে। তাঁর সবচেয়ে বিপদের দিনে আমার ‘ইত্যাদি প্রিন্টার্স’ ছিল তারসকাল-সন্ধ্যার আড্ডার স্থল। সে-সময় তাকে কেউ আশ্রয় দেয়নি। তিনি আমারএখানেই আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন। এই শোকস্তব্ধ দিনে সে-ইতিহাস বর্ণনা করারমতো মনের অবস্থা নেই। আজ এই মহূর্তে “কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতেভালোবাসে?”
ঈশ্বরে আমার বিশ্বাস নেই। তাই তার আত্মার শান্তি কামনা করারকোনো সুযোগ আমার নেই। শুধু বলি, রফিক ভাই, হে প্রিয় অগ্রজ, অন্যদের কথাজানি না, আমি অন্তত আপনাকে কোনোদিন ভুলব না!
কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বর্ণাঢ্য এক জীবন কাটিয়ে গেছেন আপনি। আজীবন তরুণ, আজীবন প্রতিবাদী, আজীবন আপোসহীন। শিশুর মতো সরল একটা মন ছিল আপনার, কাছে গেলেই তা বোঝা যেত। নিজের মনটিও হয়ে উঠতো শুদ্ধ-নির্মল-নিষ্কলুষ—আপনার সান্নিধ্যে গেলে। আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করুন, কবি।’

জুয়েল মাজহার লিখেছেন,
”চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া”র
কবি
আর
নেই।
আপনার উদ্দেশে একটা লম্বা স্যালুট।

আহমেদ স্বপন মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে ফুটে উঠেছে গভীর শোক। তিনি লিখেছেন,
‘গ্র্যান্ডমাস্টারের চালে দাবা খেলে রফিক আজাদ’
গ্র্যান্ডমাস্টারকবি রফিক আজাদ মারা গেছেন। সংবাদটি অন্তরে আঁচড় কেটে গেল। মানুষের মৃত্যুনিজেরও আংশিক মৃত্যু বটে। আনন্দলোকে থাকুন কবি।

রুবাইয়াত আহমেদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন,
‘দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে
আমার পায়ে শিকড় গজাবে
আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবে না’
-বিদায় প্রিয়কবি রফিক আজাদ। জীবনোত্তর ঘুমান শান্তিতে।

চঞ্চল আশরাফ নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
এখন নিশ্চয়ই রফিক আজাদ কত বড় কবি ছিলেন, তা দেখানোর দায়িত্ব অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করবেন।
শোকগ্রস্ত অবস্থায় এরই মধ্যে দুটি পত্রিকা রফিক আজাদ সম্পর্কে আমার কাছে লেখা চেয়েছে।
আমাকে শোক করতে দাও। তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি, সেগুলোয় ডুবে থাকতে দাও, হে সম্পাদকগণ!
আমাকে কাঁদতে দাও!

আহমাদ মোস্তফা কামাল তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
বর্ণাঢ্য এক জীবন কাটিয়ে গেছেন আপনি।
আজীবন তরুণ, আজীবন প্রতিবাদী, আজীবন আপোসহীন।
শিশুর মতো সরল একটা মন ছিল আপনার, কাছে গেলেই তা বোঝা যেত। নিজের মনটিও হয়ে উঠতো শুদ্ধ-নির্মল-নিষ্কলুষ – আপনার সান্নিধ্যে গেলে।
আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করুন, কবি।
অনন্ত সুজনের স্ট্যাটাসেও ছিল তীব্র হাহাকার। তিনি লিখেছেন,
প্রিয় কবিদের প্রস্থান ভীষণ বেদনা দেয় !
কবিতার মতো আপনার শিশুহাসিটা মিস করবো খুব।
নিশ্চয় কবিদের একমাত্র স্থান বেহেস্ত

ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন,
প্রয়াণলেখ : রফিক আজাদ
কবি মরে যাচ্ছে,
বিলয় বাতাসে পাতারা কাঁপছে
নৈঃশব্দের ভারি হাত
একে একে চুপ করাচ্ছে তাদের।

সরকার আমিন লিখেছেন,
তুমি রবে সরবে
বাংলাদেশের নির্ভেজালতম মানুষটি, কবিটি কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। শিশুর মতো মানুষটি, দেবতার মতো মানুষটি।
আমাকে আর বলবেন না, যত পাগলামিই করো, বাংলা একাডেমির চাকুরিটা ছাইড়ো না। আমি ছেড়ে কত ঘাটের পানি খেয়েছি।
মধ্যরাতে বিরিশিরিতে তিনি হা হা করে হাসতে থাকবেন না আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে; সারামুখে হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে দেবেন না আর কোন দিন।
কিন্ত তিনি;  কবি রফিক আজাদ, আমাদের মনে অনেক দিন থাকবেন, সরবে।