বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধ ধর্মঘট প্রত্যাহারের জাহাজ মালিকদেরকে

3

লাইটারজ-জাহাজ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে টানা তিনঘন্টা বৈঠকের পরও ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি জাহাজ মালিকরা। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বন্দর ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। এতে জাহাজ মালিক, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাহাজ মালিকদেরকে বন্দরের বহি: নোঙ্গর থেকে পণ্য খালাসসহ জাহাজ চালানোর অনুরোধ জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক ট্রাফিক গোলাম সারওয়ার জানিয়েছেন, “চট্টগ্রাম বন্দর একটি জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠান, লাইটারেজ জাহাজ বন্ধ থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে, বহি:নোঙ্গরে দশদিনের বেশি সময় ধরে অনেকগুলো জাহাজ পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে, এতে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের অপূরনীয় ক্ষতি হচ্ছে।”

“এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বহি:নোঙ্গর থেকে পণ্য খালাসসহ জাহাজ চালানোর জন্য মালিকদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, উল্লেখ করেন তিনি।

গোলাম সারওয়ার আরো বলেন, “তাৎক্ষনিক ভাবে মালিকরা কোন সিদ্ধান্ত জানাতে না পারলেও আগামী কালের মধ্যে জাহাজ চালানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে অন্যান্য জাহাজ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রোববার সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, “সরকার যে মজুরী ঠিক করেছে তার জন্য জাহাজ মালিকদের মতামত নেয়া হয়নি, বাড়তি মজুরী মেনে নিয়ে লোকসান গুনতে রাজি নয় মালিকরা, সেই জন্য জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।”

“বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে, এই আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে জাহাজ মালিকরা নিজেরা বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, উল্লেখ করেন তিনি।

নুন্যতম মজুরী দশ হাজার টাকা করার দাবিতে গত ২গ এপ্রিল ধর্মঘট শুরু করেছিলো নৌ শ্রমিকরা। তাদের দাবির পক্ষে সরকারের সম্মতি আদায়ের পর শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলেও মালিকরা এই মজুরী কাঠামো মানতে অপারগতা প্রকাশ করে জাহাজ চালানো বন্ধ রাখে ।

শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান ও আমদানি কারকদের নিজস্ব জাহাজ আছে শুধু মাত্র তারাই বন্দরের বহি:নোঙ্গর থেকে পণ্য খালাসসহ নৌ পথে পণ্য পরিবহন করতে পারছে।

শনিবারও চট্টগ্রাম বন্দরের বহি:নোঙ্গরে থাকা ৭০টি জাহাজের মধ্যে মাত্র ২০টিতে পণ্য খালাস হয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানাগেছে।