বন্ধের পরও গতকাল পর্যন্ত ১২৫৬ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন

78

প্রভাবশালীদের চাপে চলছে করোনার প্রথম ডোজের টিকা দেয়া দেশে বন্ধ ঘোষণার পরও । বন্ধের চারদিনে গতকাল পর্যন্ত ১২৫৬ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। প্রথম ডোজ টিকা নেয়া সবার জন্য দ্বিতীয় ডোজের মজুত সরকারের কাছে এই মুহূর্তে নেই। দেশের  কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বাচিপ, বিএমএ নেতাদের চাপের কারণে হাসপাতাল প্রথম ডোজের টিকাদান বন্ধ করতে পারছে না। টিকা দিতে না চাওয়ায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যার হুমকি-ধমকি, দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে।
দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেয়া ২৬শে এপ্রিল থেকে বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রাপ্ত টিকার স্বল্পতার কারণেই সরকার এই ঘোষণা দেয়। চুক্তি অনুয়ায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় দেশে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত ২৬শে এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ টিকা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়।

এরপর গতকাল পর্যন্ত চারদিনে ১ হাজার ২৫৬ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। প্রথম ডোজের টিকা সবচেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে। এরপর রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টিকাকেন্দ্র। জেলা হিসেবে বরিশাল ও পাবনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। ঢাকার সরকারি হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, এমনকি অন্যান্য দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরাও প্রথম ডোজের টিকার জন্য এসে চাপ দিচ্ছেন।
টিকা দিতে না চাওয়ায় তারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করেন। কেউ কেউ মারধর করতে উদ্যত হন। ওই পরিস্থিতিতে টিকা না দিয়ে কিছু করার থাকে না।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক  মানবজমিনকে বলেন, প্রথম ডোজ বন্ধ ঘোষণা করার পর কিছু লোক টিকা নিয়েছেন। অনেক বৃদ্ধ মানুষ হাসপাতালে এসেছেন। যাদের টিকা নেয়ার বার্তা আগে গিয়েছিল। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য নিতে পারেননি, তাদেরকে দিতে হয়েছে। এ রকম অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক জায়গায় মানবিক বিষয় দেখতে হয়েছে। তবে দিনদিন এই সংখ্যা কমেছে। অন্যরা দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেলে পরে নেয়া এই সাড়ে ১২শ’ লোক টিকা পাবেন।

টিকা বিতরণ সোয়া ৮৬ লাখ ডোজ: দেশে ১৮তম দিনে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে নিয়েছেন ২৪ হাজার ৪২৪ জন। এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ জন। প্রথম ও  দ্বিতীয় মিলে টিকা দেয়া হয়েছে ৮৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ ডোজ। বিতরণ করা টিকা বাদ দিলে হাতে মজুত আছে মাত্র ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ডোজ। অন্যদিকে সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর ৬৭তম দিনে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১০ জন। যদিও ২৬শে এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ টিকা গণহারে দেয়া বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় নিয়েছেন ১ জন। ঢাকার বাইরে ৯ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬ লাখ ৮ হাজার ৭৬৭ জন এবং নারী ২২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৯ জন। টিকা নেয়ার পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে মোট ৯৯৮ জনের। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৬ জন।