Home / খেলা / ‘বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই অঘটনই ঘটিয়েছে ’

‘বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই অঘটনই ঘটিয়েছে ’

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন কোনটি? কঠিন হলেও সেই কাজটাই করেছে । তাদের চোখে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই অঘটন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। এটা নির্ধারণে ক্রিকইনফো বিবেচনায় নিয়েছে অঘটন ঘটার সময়কালীন দুই দলের শক্তির ব্যবধান ও পারফরমেন্স এবং জয়ের ব্যবধান।

ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের তালিকায় ১২টি ম্যাচকে বেছে নিয়েছে ক্রিকইনফো। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই অঘটন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় সবার উপরে স্থান পেয়েছে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৬২ রানের ঐতিহাসিক জয়। দুই নম্বরে রয়েছে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের বীরত্বগাথা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান, ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট
ক্রিকইনফো লিখেছে, ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়। তখনও টেস্ট মর্যাদা পায়নি বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে হওয়া সেই বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তান তখন বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি। সাঈদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, মঈন খান, সাকলাইন মুশতাক, ইনজামাম উল হক, সেলিম মালিক, ইজাজ আহমেদ, আজহার মাহমুদ, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব আখতারদের নিয়ে গড়া পাকিস্তান দল। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২৩ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৪২ রান আসে আকরাম খানের ব্যাট থেকে। সাকলাইন মুশতাক নেন ৫ উইকেট। নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচে পাকিস্তান সহজেই জিতবে বলে ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ দল সেদিন গড়েছিল ইতিহাস। পাকিস্তানের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইন আপের সামনে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখায় খালেদ মাহমুদ-মোহাম্মদ রফিকদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। ৪২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। ৪৪.৩ ওভারে ১৬১ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বাংলাদেশ জেতে ৬২ রানে। সেই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে পাকিস্তান।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া, ২০০৫ ত্রিদেশীয় সিরিজ
কয়েক বছর পর ইংল্যান্ডে আরেকটি ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। ন্যাটওয়েস্ট ত্রিদেশীয় সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় টাইগাররা। কার্ডিফে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সেই অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, মাইকেল হাসি, গ্লেন ম্যাকগ্রা, জেসন গিলেস্পির মতো তারকারা। বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে টানা ৯ জয় এবং ইংল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ দেশের বাইরে টানা চার ম্যাচ ছিল জয়শূন্য। অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য চার বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অঘটনের তালিকায় এক নম্বরে ১৯৫২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়। সেই ম্যাচের আগে প্রায় সব ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা তখনও ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে ওঠেনি। দেশের বাইরে জয় পাওয়াটা তখন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তখন স্বপ্নের মতো। মেলবোর্নে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৭৩ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় প্রোটিয়ারা। রানের পাহাড় টপকাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৮২ রানে জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪৪ বছরের টেস্ট ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়কেই সবচেয়ে বড় অঘটন মনে করে ক্রিকইনফো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: