Home / আর্ন্তজাতিক / বাংলাদেশ ক্ষুধা সূচকে ভারত–পাকিস্তানের ওপরে

বাংলাদেশ ক্ষুধা সূচকে ভারত–পাকিস্তানের ওপরে

বাংলাদেশ ক্ষুধা নিবারণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে । ২০২০ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৫তম। অন্যদিকে এই সূচকে ভারতের অবস্থান ৯৪ তম ও পাকিস্তানের ৮৮ তম। শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (জিএইচআই)-২০২০’-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের (জিএইচআই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এবারের স্কোর ২০.৪। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ক্ষুধার মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে আছে। গত বছর ১১৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮ তম। আর ২০১৮ সালে ছিল ৮৬ তম।

গত বছরের সূচকে ভারত ১০২ তম ও পাকিস্তান ৯৪ তম অবস্থানে ছিল।
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের মাধ্যমে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অপুষ্টির পরিমাণ, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা এবং শিশু মৃত্যুর হার হিসাব করে ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক বা জাতীয়-যে কোনো পর্যায়ে ক্ষুধার মাত্রা নির্ণয় করতে এই সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে শূন্য পেলে বুঝতে হবে, ওই অঞ্চলে ক্ষুধা নেই। আর এই সূচকে ১০০ হলো সর্বনিম্ন মাত্রা, অর্থাৎ এটি ক্ষুধার সর্বোচ্চ মাত্রা বোঝাবে।
২০২০ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৬৯ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। ১৪ কোটি ৪০ লাখ শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী দেহের ওজন কম। ৪ কোটি ৭০ লাখ শিশু প্রচণ্ড অপুষ্টিতে ভুগছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ৫৩ লাখ শিশু বয়স পাঁচ বছর হওয়ার আগেই মারা গেছে।
বিশ্ব ক্ষুধা সূচক বলছে, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার মাত্রা এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। তবে পৃথিবীর সব অঞ্চলে তা সমান নয়। বিশেষ বিশেষ দেশ, অঞ্চল বা সম্প্রদায়ে ক্ষুধার মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে আছে।
এই সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ সাহারা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ক্ষুধা ও অপুষ্টির সর্বোচ্চ মাত্রা বিরাজমান। এ ছাড়া বিশ্বের ৩টি দেশে ক্ষুধার মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে। এগুলো হলো: চাদ, পূর্ব তিমুর ও মাদাগাস্কার। এ ছাড়া এই সূচকে অস্থায়ীভাবে আরও ৮টি দেশে ক্ষুধার মাত্রা উদ্বেগজনক হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোমোরোস, কঙ্গো, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেন।
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব ক্ষুধার মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সঠিক পথে নেই। এটি টেকসই উন্নয়নের দ্বিতীয় লক্ষ্যমাত্রা। তবে বর্তমান গতিতে এগোতে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: