Home / অর্থ-বাণিজ্য / ‘বিআরআই বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ’

‘বিআরআই বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ’

আমরা দেশের বাইরের যে কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে থাকব- যদি সেটা বাংলাদেশের জন্য ভাল হয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) বাংলাদেশের যোগ দেয়াকে দেশের জন্য বড় রকমের সুযোগ হিসেবে দেখছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন।

সোমবার  ‘ইম্প্লিমেন্টেশন অব দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. শামসুল আলম এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইউএনডিইএসএ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। রাজধানীর ইস্কাটনে বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা হয়।

ড. শামসুল আলম বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার গড়ে নয় শতাংশ হতে হলে আমাদের প্রচুর অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রচুর বিদ্যুৎ তৈরি করতে হবে। আমাদের মানবসম্পদ তৈরিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রকমের সুযোগ আমি মনে করি।

প্রসঙ্গত, চীনের উদ্যোগে এশীয় বিশ্বায়নের কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয় বিআরআইকে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটাকে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ ও বলা হয়, যেটার মধ্যে একটি মাত্রা হলো স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর মহাসড়ক, রেল যোগাযোগ ও বিমান যোগাযোগ উন্নয়নের মাধ্যমে ‘সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট’ গড়ে তোলা, আর অপরটি হলো সমুদ্রতীরবর্তী দেশগুলোতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে ‘একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোড’ উন্নয়ন।

২০২০ সালে অর্থনীতিতে একুশে পদক পুরস্কার পাওয়া ড. শামসুল আলম বলেন, আমরা দেশের বাইরের যে কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে থাকব যদি সেটা বাংলাদেশের জন্য ভাল হয়। তবে আমরা কারো সঙ্গে কোন প্রকার বৈরিতা বা করো সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কর ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাবের কারণ নেই। সকল রাষ্ট্রই আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, কেউ আমাদের শত্রু নয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষিত নীতিতেই বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, যত রকম অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বেরিয়ে আসবে যা মধ্যে যোগ দিলে দেশের উপকার হবে অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হবে সেটায় বাংলাদেশ অংশ নেবে। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই বেল্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশ যোগদান করেছে।

কর্মশালায় বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ করীর ‘ইমপ্লিকেশনস অব দ্য বিআরআই ফল এসডিজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির ছিলেন ড. শামসুল আলম।  সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম।বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং-এর রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ বিআরআইএর সদস্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: