বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে বাধা নেই নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে

4

ctg-Banskhali-power-plant-m20160413233454গণ্ডামারা বাঁশখালী উপজেলার  এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ৯ দফা দাবি দিয়েছে গণ্ডামারা ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন।
এসব দাবি পূরণের পর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জনগণ যদি মনে করে এর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হবে তবে এটি নির্মাণে বাধা দেওয়া হবে না।
বুধবার বিকেলে গণ্ডামারা হাদির পাড়া সাইক্লোন সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল ও জনসভার আয়োজন করে গণ্ডামারা ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন। মঙ্গলবার(১২ এপ্রিল) ২০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।
অন্যান্য দাবি হলো- আহতদের একলাখ টাকা , বিভিন্ন দেশে কয়লা বিদ্যুতের ব্যবহার সম্পর্কিত ভিডিও প্রদর্শনী জনগণকে দেখানো, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতারকৃতদের ৫ দিনের মধ্যে বিনা শর্তে মুক্তি, মামলার আসামীদের কোন প্রকার হয়রানি না করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরিবেশ ছাড়পত্র দেখানো এবং কমিটির ৪০জন সদস্যকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলে তা পরিদর্শন, আর না থাকলে  ৭ থেকে ১০জনকে বিদেশে নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প দেখানোর দাবি জানানো হয়।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হবে না, এলাকার উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে কোন সমস্যা নেই। তিনি বলেন, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ভাল না খারাপ সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। শুনেছি আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি হয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দরকার।
বাঁশখালীবাসী উন্নয়ন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে এ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে পারে কেউ কেউ। কিন্তু আমি তার আগেই এ সমাস্যার সমাধান করতে চাই।
এজন্য এলাকার জনগণকে ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, ভয় পাবেন না,আগে আমাকে গ্রেফতার করে তারপর এলাকার মানুষকে গ্রেফতার করতে হবে।
তিনি বলেন, এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এজন্য সবার সাথে মতবিনিময় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে সমাবেশে একাধিক বক্তা বলেছেন, মূলত তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে কিছুই জানেন না। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লাভ হবে না লোকসান হবে সে বিষয়েও কোন ধারণা নেই। তাই এজন্য এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সরল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুর রশিদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে কি হবে সে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এ বিষয়ে ভাল জানবেন।
প্রধান অতিথির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘এস আলম গ্রুপ অথবা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে আপনি আমাদের এই সমস্যার সমাধান করবেন।’
শফকত চাঁটগামী নামে একজন বক্তা বলেন, এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে হলে এলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা ভিটেমাটি হারিয়েছে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। জনগণের প্রতি সম্মান দেখাতে চাইলে তাদের সঙ্গে কথা বলে সুন্দর সমাধান দিতে হবে।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত মর্তুজা আলী ও মো.আনোয়ারের বড় ভাই বদি আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে মাস্টার মফজল আহমদ, আবদুল মান্নান, আবদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।