Home / খবর / বিভাগীয় কমিশনার সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব

বিভাগীয় কমিশনার সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব

brta

১৮ মে :  মো. রুহুল আমীন বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন  ।

বুধবার১৮ মে :সকালে নগরীর এলজিইডি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে জনসচেনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন,বাংলাদেশে যে পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বিশ্বে তা উলে¬খযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাই সর্বস্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে।পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে দুর্যোগ ও মহামারিতে এত লোক মারা যায় না।

দুর্ঘটনার কারন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল,গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, দক্ষ চালক হয়েও অদক্ষ চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এবং মাদকাসক্ত হয়ে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়াসহ নানা কারণে সৃষ্ট সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই।

এসব কারণে দেশের কৃতী সন্তান,সচিব ও মিশুক মুনিরসহ অনেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারাচ্ছে তাদের পরিবার আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশে ট্রাফিক আইন থাকলেও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, একজন চালক বা মালিক রাস্তায় গাড়ি বের করার আগে এটি চলাচলের উপযুক্ত কিনা তা দেখে নিতে হবে। এরপর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দক্ষ চালক দ্বারা সাবধানতার সাথে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার কোন সম্ভাবনা নেই।

পাশাপাশি সড়কে চলাচলরত অন্যান্য গাড়ির বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হবে। রাজধানী ঢাকার পরে চট্টগ্রামের স্থান এখানে ট্রাফিক নজরদারি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নসহ অদক্ষ চালকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চট্টগ্রামে একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে এত বিকট শব্দে হর্ণ ব্যবহার হয় না। সড়কে চলাচলরত গাড়ির হর্ণ ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও তা বাংলাদেশে প্রয়োগ হয় না। অপ্রয়োজনীয় হর্ণ ব্যবহার ও শব্দ দূষণের কারণে একদিকে হৃদরোগীসহ অসুস্থ লোকজনের মারাত্মক ক্ষতি হয়, অপরদিকে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই গাড়িতে হর্ণ ব্যবহার ও শব্দ দূষণ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারসহ সংশি¬ষ্টদের নিয়ে একটি সেমিনারের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনারোধে মিডিয়ার ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ-উল হাসান বলেন, একটি গাড়ির ফিটনেস দেয়ার সময় এটি সড়কে চলাচল করতে পারবে কিনা তা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে দেখতে হবে। কারণ দক্ষ চালক হলেও গাড়ি চলাচলে ফিটনেস না থাকলে তা যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মারাত্মক প্রাণহানির সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ-উল হাসান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ, বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মনজুর আলম মঞ্জু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: