Home / স্বাস্থ্য / বিশেষ মাস্ক করোনা ধ্বংস করবে !

বিশেষ মাস্ক করোনা ধ্বংস করবে !

সারা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারি রুখতে বিস্তর গবেষণা ও চিকিৎসা চলছে । লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও এখনো ভাইরাস থামানোর কোনো সমাধান মানুষের হাতে আসেনি। এই অবস্থায় সকলের অন্যতম চিন্তা পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব। মুখে মাস্ক পরে থাকা বাধ্যতামূলক।

এই অবস্থায় ৬৫ হাজারের বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে সুইজারল্যান্ডের হাইজিন সংস্থা লিভিংগার্ড টেকনোলজিস আবিষ্কার করেছে একটি নতুন ধরনের মাস্ক, যা শুধু ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে আটকাবে না, ধ্বংসও করবে। একশোর বেশি পেটেন্ট ফাইল করার পরে এটি বাজারে এনেছে তারা। তাদের দাবি, নোভেল করোনাভাইরাস সার্স কভ-২কেও এই মাস্ক ৯৯.৯৯ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করবে৷

বিশ্বের বহু দেশে কাজ করে লিভিংগার্ড। সেসব দেশে এই পণ্য বাজারে ছেড়েছে কোম্পানিটি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

জানা গেছে, সমস্ত কাউন্টার অথবা খোলা বাজারে যেসব মাস্ক সাধারণত পাওয়া যাচ্ছে, সে সবই প্রতিরোধমূলক। তবে লিভিংগার্ডের এই বিশেষ মাস্ক শুধু প্রতিরোধমূলক নয়, নিরাপত্তামূলকও বটে। এটি ব্যবহারকীরাকে তো রক্ষা করেই সংক্রমণ থেকে, সেইসঙ্গে কাছাকাছি থাকা সকলকেও উপকৃত করে।

নতুন টেকনোলজির উদ্ভাবক এবং লিভিংগার্ড সংস্থার প্রধান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষক সঞ্জীব স্বামীর নেতৃত্বে এই মাস্ক ভারতের বাজারে এসেছে। এ নিয়ে আয়োজিত সভায় সুইজারল্যান্ডের মূল দফতরে গবেষণারত প্রফেসর উয়ি রোজলার বলেন, ‘এই মাস্কের কাপড়টিই আলাদা, যা ভাইরাস নিকেশ করে প্রশ্বাসকে আরও নিরাপদ করে তোলে।’

সঞ্জীব স্বামী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, মহামারি কালে এখন প্রতি মাসে প্রয়োজন হবে কোটি কোটি মাস্ক। দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গী হবে এই মাস্ক। আমাদের মিশন হল, আধুনিক পৃথিবীর জন্য মানানসই স্বাস্থ্যবিধি প্রদান করা। সেই কারণে লিভিংগার্ড মাস্ক প্রবর্তন করতে পেরে আমরা সম্মানিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিভিংগার্ডের বর্তমান নজর হল এই টেকনোলজিকে সমধান হিসেবে প্রয়োগ করা যা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং সংকট কমায়। মানুষ কাজে ফিরবে, তাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়বে। একইসঙ্গে আর্থিক সংকটের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। আমাদের এই প্রোডাক্ট ধোয়া যায় এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এই মাস্ক পরিবেশ-বান্ধবও বটে। আমরা গবেষণা করে দেখেছি, দশ লক্ষ মানুষ পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি লিভিংগার্ড মাস্ক ২১০ বার ব্যবহার করলে, অন্য মাস্কের তুলনায় ৩৬ হাজার টন বর্জ্য বাঁচানো সম্ভব।’

লিভিংগার্ড মাস্ক তৈরি হয়েছে তিনটি স্তরে, যা সুরক্ষার পাঁচটি স্তর প্রদান করে। সেইসঙ্গে এই ফেব্রিকটি গন্ধহীন এবং ধোয়ার পরে দ্রুত শুকনো করা যায়। এক একটি মাস্কের দাম দেড় থেকে দু’হাজার টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: