Home / আর্ন্তজাতিক / বৃটেন সবুজ পরিকল্পনার আওতায়

বৃটেন সবুজ পরিকল্পনার আওতায়

গুরুত্বপূর্ণ একদা প্রায়-অর্ধ পৃথিবী শাসনকারী বৃটেন আধুনিককালেও নানা কারণে । বৃটেনের প্রাণকেন্দ্র লন্ডনের ছবি দেখলেই বিশ্বায়নের বর্ণিল পৃথিবীর ইমেজ চোখের সামনে ভেসে আসে। সেই সুপ্রাচীন বৃটেনকে ‘সবুজ পরিকল্পনা’র আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ১০ দফা ‘গ্রিন প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন তিনি।

জনসন ক্ষমতায় আসেন সঙ্কুল পরিস্থিতিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নানা ইস্যুতে মতপার্থক্য আর বৈশ্বিক মহামারি করোনার তাণ্ডব সহ্য করতে হচ্ছে গত বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণকারী জনসনকে। ক্ষমতা গ্রহণের পরই পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সক্রিয় হন তিনি। নিজে ব্যক্তিগতভাবে করোনা সমস্যায় নিপতিত হয়েও পরিবেশবাদী লক্ষ্য থেকে মোটেও বিচ্যুৎ হননি বরিস জনসন।

প্রাথমিক ভাবে  ব্রিটিশ সরকার স্থির করেছিল, ২০৪০ সাল থেকে পেট্রোল এবং ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে সক্রিয় হয়ে সেই সময়সীমা এগিয়ে এনেছেন বরিস জনসন।

প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সক্রিয় হন তিনি। ২০৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০৩০ সাল থেকে পেট্রোল এবং ডিজেল চালিত গাড়ি কেনা-বেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে চলেছেন জনসন।  তার অন্যতম লক্ষ্য, এক দশকের মধ্যে ধাপে ধাপে  জৈব জ্বালানি চালিত যানবাহন বর্জন।

পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ি বাতিল নয়, গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে জনসনের ‘সবুজ পরিকল্পনা’য় বিকল্প শক্তির ব্যবস্থার জন্য নানা পদক্ষেপের কথা রয়েছে। পরমাণু, সৌর এবং বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে জৈব জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর কথা রয়েছে ১২০০ কোটি ইউরোর মহাপরিকল্পনায়। শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির দাবি, এর ফলে দেশে আড়াই লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

বিরোধী লেবার পার্টি অবশ্য জনসন সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, বৃটেনের প্রায় ৭৪ শতাংশ যানবাহন জৈব জ্বালানি চালিত। করোনার অভিঘাতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনসনের ঘোষণায় অটোমোবাইল শিল্পে আঘাত হানবে বলে লেবার নেতৃত্বের অভিযোগ।
পরিসংখ্যানের হিসেবে, বৃটেনে বর্তমানে প্রায় ৬ শতাংশ যানবাহন ব্যাটারিতে চলে। গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহনের ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আর মাত্র ৯ বছরের মধ্যে বৃটেনের রাস্তা থেকে পাকাপাকি ভাবে বিদায় নিতে চলেছে পেট্রোল এবং ডিজেল চালিত গাড়ি। তখন কয়েক শতাব্দী প্রাচীন লন্ডন মহানগরী আর তাবৎ বৃটেন পরিবেশ বিপন্ন পৃথিবীর বিপরীতে উজ্জ্বল-সবুজ দৃষ্টান্তে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: