ব্রেকিং নিউজ
Home / আর্ন্তজাতিক / ভারত সরকার চীনা সেনা ঢোকার খবর অস্বীকার , শনিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

ভারত সরকার চীনা সেনা ঢোকার খবর অস্বীকার , শনিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

সোমবার ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিং জানান, লাদাখে চীনের দাবি করা এলাকাগুলোয় বেশ বড় সংখ্যার চীনা সেনাদের দল প্রবেশ করেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লাদাখে ‘বিশাল সংখ্যার’ চীনা সৈন্য প্রবেশের কথা স্বীকার করার খবরটি ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে ভারত সরকার। তবে তারা ঠিক কতটুকু গভীরে ঢুকেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভারত। পরবর্তীতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ভুয়া খবর হিসেবে দাবি করা হয়। টিভি চ্যানেলটি এ সংশ্লিষ্ট খবরটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও সাক্ষাৎকারে সিংকে পরিষ্কার সেনা প্রবেশের কথা বলতে শোনা গিয়েছিল। এদিকে, চলমান উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আগামী শনিবার ফের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
লাদাখে চীন ও ভারতের মধ্যকার মাসব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে বেশ কয়েকবার চীনা সেনা ভারতের অংশে ঢুকে পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমে।

অবশেষে সোমবার রাতে সিএনএননিউজ১৮ নামের টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তেমনটাই নিশ্চিত করেন রাজনাথ সিং। তবে পরবর্তীতে সরকার খবরটিকে ভুয়া সংবাদ বলে দাবি করে। টিভি চ্যানেলটি আজ তাদের খবরটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এক টুইটে জানিয়েছে, রাজনাথ সিং লাদাখের প্রসঙ্গে ওই বক্তব্য করেননি।
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী ৬ই জুন চীন ও ভারতের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটিতে অংশ নেবেন উভয় পক্ষের ল্যাফটেনান্ট জেনারেলরা। এর আগে দুই পক্ষের সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ও মেজর জেনারেলদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, লাদাখে চীন-ভারতের মধ্যকার অবরোধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন ভারতের নর্দার্ন আর্মি কমান্ডার চিফ ল্যাফটেনান্ট জেনারেল ওয়াই কে জোশি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন লেহ-ভিত্তিক ১৪ কর্পস কমান্ডার ল্যাফটেনান্ট জেনারেল হরিন্দার সিং ও অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দুই পক্ষের মেজর জেনারেলদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তাতেও কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এরপর আগামী ৬ই জুন উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৭ সালে দোকলামে একইরকমভাবে মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় ও চীনা সেনারা। ৭৩ দিন ধরে সামনাসামনি অবস্থান করেছিল উভয় পক্ষ। সিং জানান, সেবারের মতো আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। লাদাখে ভারত ও চীনের দাবি করা সীমান্ত নিয়ে দ্বিমত থাকায় প্রায়ই দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে মারামারি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে থাকে। গত মাসে ভারতের দাবি করা অঞ্চলের ১ থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছিল চীনা সেনোরা। অঞ্চলটিতে ভারত রাস্তা ও সেতু নির্মাণের চেষ্টা করলেই অনুপ্রবেশ করে চীনা সেনারা। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: